27.2 C
Dhaka
Sunday, June 14, 2026

কর্মীর শরীরে ৪২ কোপ, ৯ বছর পর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন এ্যানি

advertisment
- Advertisement -spot_img

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সানারপাড় এলাকায় ২০১৬ সালে আন্দোলনের সময় বিএনপির মিছিলে যোগ দেওয়ায় আওয়ামী লীগের হামলার শিকার হন লক্ষ্মীপুরের যুবদল নেতা আব্দুল মান্নান ছুট্টু। হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াছিন মিয়াসহ তার অনুসারীরা তাকে ৪২ কোপ দেয়। এতে ছুট্টুর বাম হাতের একটি আঙুল কেটে ফেলা হয়, ডান পায়ের রগও কেটে দেওয়া হয়। মাথা ও শরীরজুড়ে সেই বর্বরোচিত আক্রমণের দাগ আজও বহন করছেন তিনি।

সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমে শয্যাশায়ী ছুট্টুকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেখানে তিনি বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির কাছে চিকিৎসার সহায়তা চান। ভিডিওটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং এ্যানি চৌধুরীর নজরে আসার পর তারেক রহমানের নির্দেশে ছুট্টুর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন এ্যানি।

রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ্যানি চৌধুরী লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের মুসলিমাবাদ গ্রামে ছুট্টুর বাড়িতে যান। সেখানে তিনি ছুট্টুর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি ঘর নির্মাণ এবং ছেলের পড়াশোনার খরচ বহনের আশ্বাস দেন। এ সময় তিনি ছুট্টুর ভাই ইব্রাহিম ও গিয়াস উদ্দিনসহ স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি এম বেল্লাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এম ইউছুফ ভূঁইয়া, জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহসভাপতি বদরুল ইসলাম শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলসহ অন্যরা।

ছুট্টু জানান, হাজিরপাড়া ইউনিয়ন যুবদলে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এলাকায় রাজনৈতিক কারণে থাকতে না পেরে সিদ্ধিরগঞ্জে ভাইয়ের বাসায় ছিলেন। ২০১৬ সালে বিএনপির মিছিলে যোগ দিলে ইয়াছিন মিয়ার নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা তাকে আটক করে প্রথমে হাতের আঙুল কেটে দেয়, পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরজুড়ে কোপায়। মৃত ভেবে তাকে ফেলে রাখে।

স্থানীয়রা জানায়, হামলার আগে ছুট্টুর সুন্দর সংসার ছিল। তবে হামলার পর শয্যাশায়ী হয়ে পড়লে স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। একমাত্র সন্তান এখন এতিমখানায় বড় হচ্ছে। ছুট্টুর ভাইয়েরা তাকে দেখাশোনার জন্য একজন প্রবীণ ব্যক্তি ও এক চাচাতো ভাইকে মাসিক বেতনে রেখেছেন। তিনি নিজে খাবার খেতে বা দাঁড়াতে পারেন না, হাতের আঙুল শক্তি হারিয়েছে।

তার ভাই বিল্লাল হোসেন জানান, ছুট্টু তিন মাস ইউরোপ বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন, মোট ছয় মাস সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়েছেন। চিকিৎসায় প্রায় ৪২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ্যানি চৌধুরীর আশ্বাসে তারা আবারো চিকিৎসার আশা দেখছেন।

আরেক ভাই গিয়াস উদ্দিন বলেন, মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় ছুট্টু স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন না। চিকিৎসকরা বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, তবে আর্থিক সংকট ও আওয়ামী লীগের চাপের কারণে তা সম্ভব হয়নি। মামলা করার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে, কারণ পুলিশ আওয়ামী লীগের প্রভাবের কারণে মামলা নেয়নি।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ