রংপুরে হারাটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বেত দিয়ে অর্ধশত শিক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহম্মদ (ইমতি) এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নগরীর পরশুরাম থানায় এক অভিভাবক অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ৪ সেপ্টেম্বর। অভিযুক্ত ইমতিয়াজ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর ১৮ জুলাই তিনি বাগছাসের রংপুর মহানগর কমিটির আহ্বায়ক হন। এছাড়া তিনি ওই বিদ্যালয়ের অস্থায়ী পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কও ছিলেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, টিফিনের পর শ্রেণিকক্ষে ক্লাস চলাকালীন ইমতিয়াজ মোটরসাইকেলে বিদ্যালয়ে এসে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একে একে ডেকে বেধড়ক মারধর করেন। যেসব শিক্ষার্থী ‘অকৃতকার্য’ হয়েছিল, তাদের ওপর বিশেষভাবে রাগ দেখানো হয়। ওই সময় ক্লাসে শিক্ষক ছিলেন কিন্তু কোনো প্রতিবাদ করেননি।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, তিনটি শ্রেণিকক্ষে একে একে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মারধর করা হয়। কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন ভর্তি থাকতে হয় আইরিন আক্তার নামে এক শিক্ষার্থীকে।
অভিযুক্ত ইমতিয়াজ আহম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমি স্কুলের সভাপতি হিসেবে ছয় মাস ধরে স্কুলে পরিশ্রম করছি। বাচ্চাদের ভালো রেজাল্ট করানোর জন্য শাসন করেছি। এটা নিয়ে ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর কোনো অভিযোগ নেই।”
হারাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান দাবি করেছেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সম্মতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ওরা ভালো পড়াশোনা করুক, ভালো রেজাল্ট করুক। ওটাই মূল বিষয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও মহানগর বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, “এটি কোনো শাসন নয়, শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ফৌজদারি আইনে অপরাধ। প্রধান শিক্ষকের উচিত ছিল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।”
পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইদুল ইসলাম জানান, ইমতিয়াজ সভাপতি হিসেবে বিদ্যালয়ে গিয়ে শাসন করেছিলেন। এ ঘটনায় একজন অভিভাবক অনলাইনে জিডি করেন এবং পুলিশ বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল।


