28.7 C
Dhaka
Wednesday, June 10, 2026

আবরার ফাহাদ একটি বিদ্রোহী বিপ্লবের নাম: ডা. শফিকুর রহমান

advertisment
- Advertisement -spot_img

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শহীদ আবরার ফাহাদ আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তিনি নিজেই একটি বিদ্রোহী বিপ্লবের নাম। আধিপত্যের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন—এটাই ছিল তার অপরাধ। এ কারণেই তাকে নির্মমভাবে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করে দিয়েছে বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে পরোয়া করে না। যাদের নেতৃত্বে জাতি ২৪-এর লড়াইয়ে অংশ নিয়ে মুক্তি পেয়েছে, সেই সব শহীদদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”

কুষ্টিয়ার নদী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “পদ্মা ও গড়াই নদী আজ মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। উপর থেকে পানি এলে নদী ধারণ করতে পারে না, দুই কূল উপচে পড়ে সবকিছু তছনছ হয়ে যায়। বছরের পর বছর নদীভাঙনে বহু মানুষের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে। নদী আল্লাহর নেয়ামত, অথচ এই নেয়ামতকে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে। নদী খননের জন্য প্রতিবছর বাজেট বরাদ্দ থাকে, কিন্তু সেই টাকা নদীর বালির বদলে কারও পেটেই ঢুকে যায়।”

তিনি বলেন, “দেশটি শুধু আমাদের নয়, সবার। আমাদের নেতাদের হত্যা করা হয়েছে, জেলে দেওয়া হয়েছে, অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবুও আমরা ৫ আগস্টের রাতেই ঘোষণা দিয়েছিলাম—আমরা কারও ওপর প্রতিশোধ নেব না, অন্যায়ভাবে কাউকে মামলার আসামি করা হবে না। আমাদের মামলায় একজন করে আসামি করা হয়েছে, আমরা দ্বিতীয় কাউকে পাইনি।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর গণহারে মামলা দেওয়া হয়েছে। যাকে ইচ্ছা তাকে আসামি করা হয়েছে। প্রশাসনের অনেকের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হয়েছে। পরে আবার মামলা মীমাংসার জন্য ডাকা হয়েছে।”

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর কোথাও কোথাও আমাদের কিছু ভাই চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন। সত্যিই যদি সংসারের অভাব-অনটনের কারণে এমন কাজ করে থাকেন, তাহলে এখান থেকেই সরে আসুন। আল্লাহ যে রিজিক আমাদের দিয়েছেন, আমরা তা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।”

যুবকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা বেকার ভাতা দেব না। বেকার ভাতা দিলে দেশে বেকারের সংখ্যা আরও বাড়বে। আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, মানুষের হাতে কাজ তুলে দেব। কুষ্টিয়ায় সুগার মিল ও বস্ত্র মিল বন্ধ রয়েছে। আমাদের দলের নেতা যখন শিল্পমন্ত্রী ছিলেন, তখন এসব মিল চালু করে লোকসান থেকে লাভে নেওয়া হয়েছিল। এগুলো আবার চালু করতে পারলে এ অঞ্চলের বেকার সমস্যার সমাধান হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী-পুরুষ সবার হাতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ থাকবে—ইনশাআল্লাহ। বিশেষ করে যুবক-যুবতীরা যেন তাদের যৌবনের শক্তি দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।”

সমাবেশ শেষে ডা. শফিকুর রহমান কুষ্টিয়ার চারটি আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন এবং সবাইকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় জেলার নেতৃবৃন্দ তার হাতে একটি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ