“অনেকেই বলেন, হুজুর, আওয়ামী লীগও চাঁদাবাজ, বিএনপিও চাঁদাবাজ। এই দুইটার মধ্যে পার্থক্য কী? আমি বলি—একটা হলো ছেঁচড়া চাঁদাবাজ, আরেকটা হলো শাহী চাঁদাবাজ। আওয়ামী লীগ হাজার হাজার কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে—এরা হলো শাহী চাঁদাবাজ। আরেক দল আছে, যারা মুচির কাছে যায়, ঋষির কাছে যায়, টেম্পুস্ট্যান্ডে যায়—তারা ছেঁচড়া চাঁদাবাজ।”
রোববার (২০ জুলাই) বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে “ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ” কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সমাবেশে এসব মন্তব্য করেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।
ভারতের সমালোচনা
বক্তব্যে ভারতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া আসল পার্থক্য নয়। আমাদের মূল পার্থক্য হলো আদর্শ ও নীতির। এই দেশ মুসলমানদের দেশ—এটাই সবচেয়ে বড় পার্থক্য, এটাই হচ্ছে বেড়া। তারা যদি ইসলামকে ধ্বংস করতে পারে, তাহলে সিকিমের মতো কিছু চাটুকার ও দালালকে ঠিক করে এই দেশকেও একদিন ভারত দখল করে নেবে। কাশ্মীর ও হায়দারাবাদ একসময় স্বাধীন ছিলো, সেগুলো ভারত দখল করেছে। এখন ভারত এমন মানচিত্র তৈরি করেছে, যেখানে বাংলাদেশকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। সুতরাং সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, দুই নম্বর নেতার হাতে দেশ কখনো এক নম্বর হতে পারে না।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্তব্য
নির্বাচন প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর বলেন, “জীবনে অনেকবার লাঙ্গল, নৌকা এবং ধানের শীষকে ভোট দিয়েছেন। আসুন না, একবার হাতপাখাকে ভোট দিয়ে দেখেন। ওরা বারবার পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেছে। আমরা যদি একবার ফেল করি, তাহলে আর পরীক্ষার হলেই যাবো না।”
সভাপতিত্ব করেন মো. রবিউল ইসলাম শাহীন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শেখ ইহতেশাম বিল্লাহ আজিজী। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদারসহ কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


