রাজধানীর মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্তের পরপরই সেখানে ভিড় জমে যায়। প্রচুর মানুষ উৎসুক হয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এই ভিড়ের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, এতো উপদেষ্টা ও কর্মকর্তার হাসপাতালে যাওয়া কতটা প্রয়োজনীয় ছিল।
তবে এই নেতিবাচকতার মধ্যেও অনেক ইতিবাচক ও মানবিক ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই যখন জানানো হয়—আহতদের রক্তের প্রয়োজন, তখনই হাসপাতালগুলোতে রক্তদাতাদের ভিড় লেগে যায়। কেউ কেউ দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন, যেমন সিলেট থেকে এক নারী ঢাকায় আসেন শুধু রক্ত দিতে।
এরই মাঝে দেখা যায়, তৃতীয় লিঙ্গের কিছু মানুষ ঢাকার বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে হাজির হয়েছেন রক্ত দিতে। তাদের একজন বলেন,
“আমরা খবর শুনেছি, আমাদের বাচ্চারা আহত হয়েছে। তাদের প্রচুর রক্ত দরকার। তারা কষ্ট পাচ্ছে। তাই আমরা এসেছি। আমাদের রক্ত নেওয়ার ব্যবস্থা করুন, আমরা রক্ত দিতে চাই।”
আরেকজন বলেন,
“গতকালই আসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু শুনেছিলাম তখন রক্ত লাগবে না। তাই আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই চলে এসেছি। আমরা কুড়িল বিশ্বরোডে থাকি।”
এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে সর্বমহলে।
এদিকে, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে ২ জন প্রাপ্তবয়স্ক—পাইলট তৌকির ইসলাম ও শিক্ষিকা মাহরীন চৌধুরী। বাকিরা সবাই শিশু। এছাড়া চিকিৎসাধীন আছেন ৭৮ জন।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান জানান,
- সোমবার (২১ জুলাই) রাতে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে মারা গেছেন আরও ৮ জন, সেখানে ৪২ জন ভর্তি।
- সিএমএইচে বর্তমানে ২৮ জন চিকিৎসাধীন, আগত ১৫ জনের মরদেহের মধ্যে ৮ জনের দেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
- পাইলট তৌকিরের মরদেহ সিএমএইচে রাখা হয়েছে।
- ৬ জনের মরদেহ শনাক্ত হয়নি, ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে।
- ঢাকা মেডিক্যালে ১ জনের মৃত্যু, ৩ জন ভর্তি, এর মধ্যে ২ জন আইসিইউতে।
- ইউনাইটেড হাসপাতালে একজনের মরদেহ আনা হয়েছে।
- কুর্মিটোলা ও উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল থেকেও মরদেহ পাঠানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৩১ জন, আর চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৮ জন।


