28 C
Dhaka
Saturday, June 13, 2026

দুর্বলতা ও প্রতিপক্ষের কৌশলে ভরাডুবি ছাত্রদলের, নানামুখী কৌশলে সফল শিবির

advertisment
- Advertisement -spot_img

সাদ আদনান রনি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮তম কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবিরপন্থি ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ভিপি, জিএস, এজিএসসহ ২৮টির মধ্যে ২৩টি কেন্দ্রীয় পদে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল কোনো কেন্দ্রীয় পদেই জয়লাভ করতে পারেনি। এ ভরাডুবি গোটা দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ডাকসু নির্বাচন ছিল দেশে প্রথম কোনো বড় নির্বাচন। ফলে রাজনৈতিকভাবে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহও ছিল ব্যাপক।

আওয়ামী লীগ আমলে কোণঠাসা থাকা ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের পাশাপাশি নতুন কিছু মুখও আলোচনায় আসে। যদিও ছাত্রদলই একমাত্র সংগঠন হিসেবে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দেয়, কিন্তু কেন্দ্রীয় কোনো পদে জয় না পেয়ে কেবল হলভিত্তিক কয়েকটিতে সীমাবদ্ধ থাকে তাদের সাফল্য।


ছাত্রদলের ভরাডুবির কারণ

শিক্ষার্থী ও বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি কারণে ছাত্রদলের এ পরাজয় হয়েছে:

  • দীর্ঘ অনুপস্থিতি: গত ১৫–১৬ বছর ক্যাম্পাসে সক্রিয় রাজনীতি করতে পারেনি ছাত্রদল।
  • অন্তর্কোন্দল: প্রার্থী মনোনয়ন ও প্যানেল ঘোষণায় দেরি এবং সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব বড় সমস্যা তৈরি করে।
  • প্রচারণার দুর্বলতা: অনিয়মিত, অগোছালো এবং দুর্বল প্রচারণা; সামাজিক মাধ্যমে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি।
  • অপরিচিত প্রার্থী: অধিকাংশ প্রার্থী শিক্ষার্থীদের কাছে অচেনা থেকে গেছেন।
  • নেতিবাচক প্রচারণা: গেস্টরুম–গণরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার গুঞ্জন রটলেও ছাত্রদল তার জবাব দিতে পারেনি।
  • মানসিক প্রস্তুতির অভাব: নির্বাচনের তারিখ পিছোবে— এ ধারণায় দেরিতে প্রচারণা শুরু হয়।

ছাত্রদলের একজন নেতা স্বীকার করেন, “শিক্ষার্থীদের পালস বুঝতে না পারার কারণে আমরা গ্রহণযোগ্য হতে পারিনি।”


শিবিরের কৌশল ও সাফল্য

অন্যদিকে ছাত্রশিবির তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, সেবামূলক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে নির্বাচনে সাফল্য পায়।

  • গোপন সাংগঠনিক কার্যক্রম: বিগত ১৫ বছর ছাত্রলীগের ছায়াতলে থেকেও শিবির কোচিং সেন্টার, মেস ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠন চালিয়ে যায়।
  • সামাজিক সেবা: ইফতার আয়োজন, পানির ফিল্টার বসানো, বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের মতো কার্যক্রম চালিয়ে শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করে।
  • অন্তর্ভুক্তিমূলক প্যানেল: ধর্মীয় সীমার বাইরে গিয়ে নারী ও অমুসলিম প্রার্থী রাখা— এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে।
  • কোচিং সেন্টারের ভূমিকা: “ফোকাস”সহ কয়েকটি কোচিং সেন্টার থেকে শত শত শিক্ষার্থী ঢাবিতে ভর্তি হয়ে শিবিরের ভোটব্যাংক তৈরি করে।
  • পালস বোঝা রাজনীতি: শিক্ষার্থীরা যে বাস্তব সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস চায়, শিবির সেটার ওপর গুরুত্ব দেয়।

ছাত্রশিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীরা পুরোনো রাজনৈতিক ভাষণ শুনতে চায় না। তারা বাস্তব যোগাযোগ ও সেবামূলক কার্যক্রম চায়। আমরা সেটাই করেছি।”

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ