28.4 C
Dhaka
Thursday, June 18, 2026

নির্ধারিত টাইমলাইনে নির্বাচন হতেই হবে: সালাহউদ্দিন আহমেদ

advertisment
- Advertisement -spot_img

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করানো উচিত—একে কোনো শর্তের মধ্যে বেঁধে রাখা যাবে না। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি (থ্রেট) সৃষ্টি করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন একে অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়; এগুলো আলাদা প্রসেস হিসেবে চলবে—সংস্কার চলবে, বিচার চলবে; কিন্তু নির্বাচনের সঙ্গে এগুলোকে কন্ডিশনাল করা যাবে না।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠককালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, চলমান প্রক্রিয়ায় আরও অনেকগুলো সংস্কারের প্রয়োজন আছে যেগুলো সময়ের অভাবে পুরোপুরি ট্রেস করা হয়নি। মোট ১৯টি মৌলিক বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে; বাস্তবে মৌলিক বিষয় আরও বেশি। পাশাপাশি ৮২৬টি ছোট-বড় সংস্কার প্রস্তাব পাওয়া গেছে—যেগুলো দলে আলোচনা করে লিখিত মতামত দেওয়া হয়েছে। এ প্রস্তাবগুলোর মধ্যে মাত্র ৫১টি বিষয়ে দ্বিমত হয়েছে এবং ১১৫টি প্রস্তাবে ভিন্নমতসহ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সর্বমোট প্রায় চূড়ান্ত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, দুই-তিন দিনের মধ্যে যে কোনো বিষয়ের বাস্তবায়ন অচল হয়ে পড়লে তা চ্যালেঞ্জের জন্ম দিতে পারে—সুতরাং আমরা কোনো বিষয়ই ফেলে রাখতে চাই না। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে; শুধু প্রসিডিউরাল কারণে কিছু সময় লাগতে পারে।

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ১৯টি সাংবিধানিক ইস্যুর মধ্যে কিছু বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ আমরা একমত হয়েছি। ৭০ অনুচ্ছেদের চারটি বিষয়ে এমপিদের স্বাধীনতা সীমিত করলে ভালো হবে—এ বিষয়ে ন্যূনতম দুটি বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। নোট অব ডিসেন্টের ভাষা উল্লেখ করে সনদ তৈরি করা হচ্ছে এবং সেভাবে স্বাক্ষর করা হবে। যারা জনগণের ম্যান্ডেট পাবে, তারা নোট অব ডিসেন্ট রক্ষা করে বাস্তবায়ন করবেন—এটি জটিল কোনো বিষয় নয়।

কয়েকটি বিষয় বাদ দিলে বাকিগুলো বাস্তবায়ন সহজ বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন—সাংবিধানিক বিষয়গুলো কি পরবর্তী সংসদের বাইরে কোনো অন্য ফোরামে করা যাবে? এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট আইনগত পরামর্শ দিতে পারে; সেখানে যেতে পারলে সহায়তা নেওয়া যাবে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা সনদে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত—কিন্তু কিছু বাকি আইনি ও প্রক্রিয়াগত বিষয় আছে যেগুলো পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

সালাহউদ্দিন জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে তাকে শক্তিতে রূপান্তরের জন্য আরও বিনিময় ও আলোচনা করার পক্ষে মন্তব্য করেন এবং বলেন, আমরা কম্প্রোমাইজ করতে প্রস্তুত; আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যদি কোনো সমাধান বের করা যায়, তাতে একমত হবো। প্রস্তাবিত চূড়ান্ত জুলাই সনদে কিছু ক্লারিক্যাল মিসটেক ও বিভ্রান্তিকর অংশ আছে—সেগুলো করেকশন করে নেওয়া হবে; এটি জাতীয় ও ঐতিহাসিক দলিল হওয়ায় নির্ভুল হওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, যদি সনদের আইনগত ভিত্তি শেষ মুহূর্তে না দেওয়া হয়, তাহলে কিছু দলের স্বাক্ষর না করার অবস্থাও থাকতে পারে—এই বিষয়ে আমরা বলেছি, আইনি ভিত্তি নিয়ে আলোচনা হলে তাতে অংশ নেবো। কমিশন ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েছে এবং ড্রাফটে লিখিত মতামতও দেওয়া হয়েছে। কিছু বিষয় পরে টিকবে না, সেগুলো সনদে উত্থাপন করা ঠিক হবে না।

গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ শাসনের কলাপথে বিএনপি যে অবিচারের শিকার হয়েছে—গুম, হত্যা ও নির্যাতন—তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিচার চলবে; এটি আমাদের ও জাতির প্রতিশ্রুতি। কিন্তু নির্বাচনকে বিচার বা সংস্কারের শর্তে বাঁধা দেয়া যাবে না। যদি ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে কোনো অনিশ্চিত পরিবেশ তৈরি হয়, তা ফ্যাসিবাদী শক্তির জন্য সুযোগ তৈরি করবে—এটি দেশের জাতীয় জীবনের জন্য বিপজ্জনক। তিনি বলেন, এটা রিজিওনাল নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে; ফলে নির্ধারিত টাইমলাইনে নির্বাচন হতেই হবে।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ