৪ দফা দাবি সামনে রেখে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগে সমাবেশে বক্তারা বলেন, “আমরা ইসলামকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চাই, কোনো খুনিকে নয়।”
বিক্ষোভে অংশ নিতে দুপুর থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে নেতাকর্মীরা জড়ো হন। জোহরের নামাজের পর কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ-পূর্ব সমাবেশ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, “সংস্কারের নামে তামাশা চলছে। আমরা বাচ্চাদের গান শেখাতে চাই না, সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে, না হলে রাজপথে নামা হবে।”
তারা আরও বলেন, “সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হবে না। পিআর পদ্ধতিতেই নির্বাচন হতে হবে। জুলাই সনদের আইনের ভিত্তিতে নির্বাচন হতে হবে। যারা নির্বাচন বানচাল করতে চাইবে, আগামী নির্বাচনে জনগণ তাদের বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করবে।”
নেতারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দেন।
ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা চলাকালে রাজপথে নামছে জামায়াতসহ কয়েকটি ইসলামী দল। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ নানা দাবি জানাচ্ছে তারা। এসব দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ সাতটি রাজনৈতিক দল।
জোহরের পর ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ হয় বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে, আসরের পর জামায়াতের বিক্ষোভ হয় দক্ষিণ গেটে। একই দিনে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে কর্মসূচি পালন করেছে আরও পাঁচটি ইসলামী দল।
এই ইসলামী দলগুলোর অভিন্ন দাবির মধ্যে রয়েছে—
- জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি,
- পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন,
- নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা,
- জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করা,
- বিশেষ ট্রাইব্যুনালে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের বিচার এবং বিচার চলাকালে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
এছাড়া শুক্রবার বিভাগীয় শহরগুলোতে এবং আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সব জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলগুলো।


