ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — জামায়াতে ইসলামী নেতা মীর কাশেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান তার নতুন আত্মজীবনীমূলক বই ‘আয়নাঘরের সাক্ষী : গুম জীবনের আট বছর’-এ দাবি করেছেন যে গুম হওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তাঁকে দেশের অন্যতম শীর্ষপরিবারের একজন সদস্য ও আরও দুই উচ্চপদস্থ ব্যক্তি সতর্ক করে দ্রুত দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বইটির কপি ঢাকা পোস্টের হাতে এসেছে।
বই অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে বার-অ্যাট-ল’ পড়ার সময় গড়ে ওঠা একটি ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মাধ্যমে শেখ পরিবারের ওই সদস্য প্রথমে আরমানকে দেখেন এবং বলেন যে “তোমার নাম কিছু লোকের মুখে উঠছে — তুমি দ্রুত দেশ ছাড়ো।” এরপর দুই জায়গা থেকে—একজন বিএনপির শীর্ষ নেতার ছেলে ও এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা জেনারেল—ও সতর্কতা ও দেশত্যাগের পরামর্শ দেন।
আরমান লিখেছেন, তিনটি ভিন্ন সূত্র থেকেই একই সতর্কতা পেয়ে তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাবা মীর কাশেম আলীর নির্দেশক্রমে দেশে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। আরমানের বর্ণনায়, সেই সিদ্ধান্তের তিন দিন পর ৯ আগস্ট ২০১৬-এ তাকে বাসা থেকে তুলে নেয়া হয় এবং দীর্ঘ আট বছর তিনি ‘আয়নাঘরে’ ভীতি ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে জীবন কাটান। বইতে তিনি জানান, ৫ আগস্ট ২০২৪-এ আয়নাঘর থেকে মুক্তি পান—পৃথকভাবে বইয়ে এই মুক্তির প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়েছে।
বইয়ে আরমান আরও বলছেন যে, তিন সূত্র থেকেই যে সতর্কতা এসেছিল তার মূল কারণ ছিল সরকারী উচ্চস্তরের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজর—তারা মনে করেছিল তাঁর কিছু আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও কর্মকাণ্ড অনাকাঙ্খিত নজর আকর্ষণ করছে। আরমান বাবার রায়ের পরও পরিবারের পাশে থাকতে এবং বাবাকে সান্ত্বনা দিতে দেশেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।


