34.7 C
Dhaka
Tuesday, June 16, 2026

আন্দোলনকারীরাই লোকদের হত্যা করেছে, দাবি শেখ হাসিনার আইনজীবীর

advertisment
- Advertisement -spot_img

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচি বৈধ সরকারকে উৎখাতের পরিকল্পিত নকশার অংশ ছিল বলে দাবি করেছেন শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তার মতে, আন্দোলনকারীরাই ষড়যন্ত্র করে আন্দোলনরত লোকদের হত্যা করেছেন।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদের সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে তিনি এ দাবি করেন। জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ৪৮তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন জুনায়েদ।

সাক্ষ্যগ্রহণের সময় জেরা করতে গিয়ে আমির হোসেন বলেন, কোটা সংস্কার সমাধানে শেখ হাসিনা যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন। আন্দোলনকারীরা সেই আন্তরিকতা উপেক্ষা করে একের পর এক বেআইনি কর্মসূচি দিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনা কখনো আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে রাজাকারের বাচ্চা বা নাতিপু বলেননি।

তার মতে, ১৬ জুলাইয়ের ঘটনায় ছাত্রলীগ-পুলিশের হামলায় কেউ নিহত হননি; বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে সাক্ষী জুনায়েদ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল আন্দোলন দমন করার অংশ। তিনি আরও জানান, আন্দোলনে কোনো ষড়যন্ত্র ছিল না, বরং কর্মসূচিগুলো ছিল ন্যায্য দাবির প্রতিফলন।

স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী পরে অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীরাই ষড়যন্ত্র করে বেছে বেছে মানুষ হত্যা করেছে। কারণ এত মানুষের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক নিহত হওয়ার বিষয়টি অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। জবাবে জুনায়েদ এ দাবি নাকচ করে দেন।

আমির হোসেন আরও যুক্তি দেন, ২১ জুলাই কোটা সংস্কার বিষয়ে আপিল বিভাগে রায় ঘোষণার কথা থাকায় সরকার আন্দোলন থামাতে বলেছিল—এটিই ছিল আন্তরিকতার প্রমাণ। কিন্তু ফেসবুক প্রোফাইল লাল করাসহ আন্দোলনের কর্মসূচি ছিল দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।

শেষে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ড বা নৃশংসতার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

উল্লেখ্য, ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত জুনায়েদের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। এরপর স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীর জেরা অসম্পূর্ণ থাকায় শুনানি আজ পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, তারেক আবদুল্লাহ, মামুনুর রশীদসহ আরও অনেকে।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ