মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে কোনো ষড়যন্ত্র ছিল না বলে দাবি করেছেন ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৪৮তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামি পক্ষের আইনজীবীর জেরায় তিনি এ কথা বলেন।
গত রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন জুনায়েদ। এরপর সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মো. মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তার জেরা শুরু হয়।
রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী আমির হোসেন দাবি করেন, জুলাই অভ্যুত্থান ছিল আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতের সূক্ষ্ম নকশার অংশ। তিনি জুনায়েদকে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবেও অভিহিত করেন। তবে জুনায়েদ এ অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “আন্দোলনে কোনো ষড়যন্ত্র ছিল না।”
আমির হোসেন আরও প্রশ্ন তোলেন, ফেসবুক প্রোফাইল লাল করা, ‘মার্চ ফর জাস্টিস’, ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’, ১ আগস্টকে ৩২ জুলাই ঘোষণা এবং ‘মার্চ টু ঢাকা’র মতো কর্মসূচি ছিল দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল। কিন্তু জুনায়েদ এসবকেও ‘অসত্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
আইনজীবী দাবি করেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে কোনো গণহত্যা হয়নি, বরং আন্দোলনকারীরাই ষড়যন্ত্র করে লক্ষ্যভিত্তিকভাবে জুলাইয়ের শহীদদের হত্যা করেছেন। জবাবে জুনায়েদ বলেন, “এ কথাও সত্য নয়।”
জেরার সময় আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বা ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলেননি। এ দাবি খণ্ডন করে জুনায়েদ জানান, “এ কথা সত্য নয়।” তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্যের প্রতিবাদেই আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিয়েছিলেন—“তুমি কে, আমি কে? রাজাকার রাজাকার/কে বলেছে, কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার।”
জেরা শেষে ট্রাইব্যুনাল আজ (মঙ্গলবার) পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছে।
উল্লেখ্য, এ মামলার অন্য আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। শেখ হাসিনা ও কামালকে পলাতক দেখিয়ে বিচারকাজ চলছে। এদিকে আইজিপি মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন এবং গত ২ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।


