দেশের ওপর আধিপত্য বিস্তারের জন্য এখন তিনটি পরাশক্তি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের নীতি হচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশ। এই তিনটা শব্দের মধ্যে সারা বাংলাদেশ জীবিত থাকবে। দেশের মানুষের স্বার্থ নিহিত থাকবে। এর ফলে এই জাতি কোনো দিন ভুল পথে পরিচালিত হবে না। সবার আগে বাংলাদেশ নীতি আমাদের প্রতিষ্ঠা করতেই হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই নীতি প্রতিষ্ঠা হবে যদি আমাদের সব ছাত্রবন্ধু, যুবসমাজ তাত্ত্বিকভাবে সমৃদ্ধ হই, জ্ঞানে-গরিমায় সমৃদ্ধ হই। যদি আমরা মেধাবী ও প্রতিভাবানদের নেতৃত্বে নিয়ে আসি, তখনই এই অগ্রযাত্রা আমাদের সম্ভব হবে। আসুন, আমরা বাহুর চেয়ে মেধাকে গুরুত্ব দিই। আমরা সব সময় মনে করি, শক্তির প্রধান উৎস হবে মেধা এবং প্রতিবাদ। কেউ যদি বাহুবলে কথা বলে, তার পরিণতি শেখ হাসিনার মতোই হবে।”
সালাহউদ্দিন বলেন, “ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বললেই জীবন দিতে হতো। আবরার ফাহাদের জীবন নেওয়ার মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, যাতে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা না বলে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের বিরুদ্ধে এখন তিনটি পরাশক্তি আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করছে। এর মধ্যে দুটি আঞ্চলিক শক্তি এবং একটি বিশ্ব মোড়ল। হাসিনার মতো একটি লেজুড়বৃত্তি নেতার কারণে পরাশক্তির দেশ রাজনৈতিক হেজিমনি ও আগ্রাসন চালাতে পেরেছে।”
তিনি বলেন, “দেশের রাজনীতিতে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে হলে ভালো উদাহরণ দরকার।”
এ সময় ছাত্রদলের নেতারা বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সময় গুপ্তভাবে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব পর্যায়ে ছিল একটি সংগঠন। আর সেই মামলায় হত্যাকারীদের ফাঁসি থেকে রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছে জামায়াত নেতা শিশির মনির। যুগে যুগে গুপ্ত সংগঠনের এসব কার্যক্রম সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরবে ছাত্রদল।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অসম চুক্তি এবং পানি আগ্রাসন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার জেরে ছাত্রলীগ কর্তৃক নৃশংসভাবে খুন হন বুয়েটের তড়িৎকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ।


