29 C
Dhaka
Monday, June 15, 2026

সেনা কর্মকর্তাদেরও বিচারের উপযুক্ত স্থান ট্রাইব্যুনাল: চিফ প্রসিকিউটর

advertisment
- Advertisement -spot_img

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনারি ফোর্সের (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) বিচারের জন্যই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ আইনে যেসব অপরাধের বিচার করা হচ্ছে, সেসবের বর্ণনা বাংলাদেশের সাধারণ কোনো আইনে নেই। এমনকি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনীর নিজস্ব আইনেও নেই। এটি একটি বিশেষ আইন। এই অপরাধগুলো আন্তর্জাতিক আইনে বর্ণিত অপরাধ। সুতরাং এসব অপরাধের বিচার কেবল এই আইনের আওতায় করতে হবে।

রোববার (১২ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে গুমের মামলায় সামরিক কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আইন সবসময় আইনের গতিতেই চলবে। যখন আদালত থেকে কোনো গ্রেপ্তারি বা অন্য কোনো পরোয়ানা জারি হবে, তখন একজন আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতের সামনে উপস্থিত করতে হবে। এটি সংবিধান, ট্রাইব্যুনাল ও ফৌজদারি কার্যবিধিতেও উল্লেখ আছে। অর্থাৎ, যেখানেই গ্রেপ্তার করা হোক না কেন, আদালতে আনার সময়ে যতটুকু সময় ব্যয় হবে তা ছাড়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতের সামনে উপস্থিত করতেই হবে—এটাই আইনের বিধান।

তিনি আরও বলেন, শুধু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন নয়, সংবিধানও স্বীকৃতি দিয়েছে যে গ্রেপ্তার করে ২৪ ঘণ্টার বেশি কাউকে আটক রাখা যায় না। আদালত যদি কাউকে আটক রাখার অনুমতি দেয়, তাহলে রাখা যাবে; আদালত যদি মুক্তি দিতে বলেন, সেটিও করা যাবে। অর্থাৎ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তখন আদালতের হাতে চলে যায়।

“এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ এ বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা চাননি। যদি কেউ চান, নিশ্চয়ই আমরা আইনি ব্যাখ্যা জানাব,” বলেন তিনি।

হেফাজতে নেওয়া ১৫ সেনা কর্মকর্তার অবস্থান বা স্ট্যাটাস বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ বলেনি যে তাদের আটক রাখা হয়েছে। তাই মিডিয়ায় যা এসেছে, সেটিকে আমরা আমলে নিচ্ছি না। যদি আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়, তাহলে অবশ্যই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতের কাছে আনতে হবে—এটাই বিধান। যেহেতু আমরা জানি না, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।”

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই আইন তৈরি করা হয়েছে। এসব আইন সংবিধানের কোনো অনুচ্ছেদ বা বিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও প্রাধান্য পাবে।

তিনি বলেন, “সংবিধান নিজেই বলে দিচ্ছে যে সংবিধানের চেয়েও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন শক্তিশালী। এটি সংবিধানের মাধ্যমেই স্বীকৃত। তাই এই আইনের কোনো বিধানকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না, উচ্চ আদালতে রিটও করা যাবে না। এটি সব আইনের ওপর প্রাধান্য পাবে। সুতরাং এই আইনের বিধানে যে বিচারের প্রক্রিয়া রয়েছে, তার মধ্য দিয়েই সবাইকে চলতে হবে—এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ