অভিবাসন আইনে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে জার্মানি। দেশটির সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের সম্মতিতে বাতিল করা হয়েছে গেল বছরের জুনে সাবেক চ্যান্সেলর ওলাফ শলজ সরকারের পাস করা আইন, যার মাধ্যমে সুদক্ষ বিদেশি কর্মীরা মাত্র তিন বছরের মধ্যে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পেতেন।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে জার্মানিতে কর্মরত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিকিৎসক, গবেষক, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলীসহ নানা পেশার দক্ষ পেশাজীবীরা এখন নিয়মটি বাতিলের মুখোমুখি হয়েছেন।
সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ড সংসদে আইনটি বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জার্মানিতে বসবাসরত প্রবাসীদের অনেকে এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুইভাবেই দেখছেন। তাদের মতে, দেশটিতে এসে কর প্রদান, জার্মান ভাষায় দক্ষতা অর্জন ও জার্মান মূল্যবোধে নিজেকে অভ্যস্ত করার পরও নাগরিকত্বের সুযোগ বাতিল করাকে অনেকে হতাশাজনক হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইনে কড়াকড়ি আনার অংশ হিসেবে কেউ যদি সন্ত্রাসী সংগঠনের সমর্থক হন, দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন বা ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্র-ডানপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাস রাখেন—তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে।
জার্মান কমিউনিটি নেতাদের মতে, যারা দ্রুত নাগরিকত্ব পেয়ে দেশটিতে বসবাস করছেন, তাদের জার্মান আইন, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থার প্রতি আরও শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। নতুবা পরিস্থিতি তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠবে।


