বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী আসনগুলোতে গণঅধিকার পরিষদ কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান।
রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ড উপজেলার একতারা মোড়ে এক গণসমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন।
রাশেদ খান বলেন, “খালেদা জিয়া অনেক কষ্টে জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। তাকে সবাই সমর্থন করবে—এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই গণঅধিকার পরিষদ তার আসনগুলোতে কাউকে মনোনয়ন দেবে না।”
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোনো ডামি এমপি, আওয়ামী পন্থী কিংবা ফ্যাসিস্ট কাউকেই অংশগ্রহণ করে নির্বাচন বানচাল করার সুযোগ দেবে না গণঅধিকার পরিষদ।”
তিনি আরও বলেন, “সেরা নির্বাচন করার জন্য শুধু মুখের বুলি শুনছি। রাজনৈতিক দলগুলোকে সান্ত্বনার বাণী শোনানো হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পরেও মনে হচ্ছে রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো পরিবর্তন হয়নি; বরং দেশে হানাহানি, মারামারি ও বিদ্বেষ বেড়েই চলেছে।”
গণসমাবেশে যোগদানের আগে রাশেদ খান একতারা মোড়ে গণঅধিকার পরিষদের ভাঙচুর হওয়া স্থানীয় কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “দেশে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি সরকার। মানুষের মনে এ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেভাবে কাজ করার দরকার ছিল, সেভাবে তারা কাজ করতে পারছে না। পুলিশের মধ্যে ভয় কাজ করছে। কোনোভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না তারা। এই অবস্থায় চলতে থাকলে আগামী নির্বাচন হবে সবচেয়ে সাংঘর্ষিক নির্বাচন।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আপনারা নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করুন। ড. ইউনূস বলেছেন, আগামী নির্বাচন হবে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে পরিবেশ দেখা যাচ্ছে না। সব দলকে ডেকে নিয়ে আলোচনা করে নির্বাচনী পরিবেশ উন্নয়নের উদ্যোগ নিন। তাহলেই ইতিহাসের সেরা নির্বাচন সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “সেরা নির্বাচন করার জন্য শুধু মুখের বুলি নয়, কার্যকর পদক্ষেপ দরকার। রাজনৈতিক দলগুলোকে আশার কথা নয়, বাস্তব নিশ্চয়তা দিতে হবে।”


