29.2 C
Dhaka
Sunday, June 14, 2026

আসন্ন নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে না : শিশির মনির

advertisment
- Advertisement -spot_img

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের আপিলের ওপর ২০ নভেম্বর রায় ঘোষণা করবে আপিল বিভাগ। আইনজীবীরা আশা করছেন, সেদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার রায় আসতে পারে। তবে তারা বলছেন, রায়ে এমন সিদ্ধান্ত এলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) জামায়াতে ইসলামীর পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সম্ভব নয়। কারণ, সংসদ ভেঙে দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের কথা বলা আছে। এখন কোনো সংসদই নেই—এক বছরের বেশি সময় আগে সংসদ ভেঙে গেছে। আমরা আশা করছি, চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে। আমরা আপিল বিভাগে আবেদন করেছি যেন পরবর্তী নির্বাচন থেকেই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা কার্যকর হয়।”

এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে করা আপিলের শুনানি শেষ হয়। এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ দিন নির্ধারণ করেন। টানা ১০ দিন শুনানি শেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই ঐতিহাসিক মামলার রায়ের দিন ঘোষণা করে।

বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন—বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস. এম. ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া; বিএনপির পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল; জামায়াতের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ এবং ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

এর আগে ২১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২, ৪, ৫, ৬ নভেম্বর এবং ২২, ২৩, ২৮, ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত আপিলের টানা শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। তবে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ এই সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী বিল, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও পৃথকভাবে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ