ফ্যাসিস্ট দলের প্রধান শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে না ঝোলানো পর্যন্ত তার নাম মাথায় ঘুরবে বলে মন্তব্য করেছেন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ)–এর জমজ ভাই ও সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া মীর মাহবুবুর রহমান (স্নিগ্ধ)।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মীর স্নিগ্ধ নামে আইডি থেকে তিনি লেখেন, “অন্তরে ঘৃণা নিয়ে যে নামটির জন্ম হয়েছে, সেটি হলো শেখ হাসিনার নাম। এটা শুধু আমার নয়, বরং বাংলাদেশের সকল সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে গত ১৬ বছরে অত্যাচারিত পরিবারের। যতদিন পর্যন্ত এই খুনি হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে দেশের মাটিতে ফাঁসির দড়িতে না ঝোলানো হচ্ছে, ততদিন সকাল-বিকেল, সজ্ঞানে কিংবা ঘুমের স্বপ্নেও এই হাসিনার নাম মাথায় ঘুরবে।”
তিনি আরও লেখেন, “যতবার এই নাম মুখে আসে, মনে রাখবেন—তা কেবল ঘৃণা থেকেই আসে। এই খুনি শেখ হাসিনা যতদিন ফাঁসির দড়িতে না ঝুলছে, ততদিন শান্তি নেই। শেখ শেখ মুখ দিয়ে বের হবেই, যতদিন না পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলানো হচ্ছে এই স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে।”
সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন মীর স্নিগ্ধ। এ বিষয়ে তিনি জানান, তরুণ প্রজন্ম এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের জন্য বৃহৎ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে কাজ করার উদ্দেশ্যে তার এই যোগদান।
বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “এই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে আমি জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের নিয়ে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে পারব। বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখার অনেকগুলোর সঙ্গে আমি সরাসরি কাজ করতে আগ্রহী।”
ফেসবুকে দেওয়া আরেক পোস্টে মীর স্নিগ্ধ লিখেছেন, রাজনীতিতে তার আসার অন্যতম লক্ষ্য হলো সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে জুলাই আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করা, শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা এবং রাজনীতিতে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
তিনি উল্লেখ করেন, তার ভাই মুগ্ধ বা পরিবারের কেউ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। মুগ্ধকে ‘দেশের সম্পদ’ আখ্যা দিয়ে মীর স্নিগ্ধ বলেন, তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে এবং নিজের যোগ্যতায় রাজনীতিতে এসেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে তরুণদের প্রতিনিধিত্বের জন্য দলে চেয়েছেন, যা তার নিজের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিলে যায়।


