২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি, তবে বগুড়ায় নির্বাচনী উত্তাপ আগেই ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে জেলা বিএনপি পাঁচটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে—এর মধ্যে দুটি আসনে লড়বেন দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘদিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের পর এবার বগুড়ায় নতুন করে প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে।
২০০৮ সালের পর একতরফা ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের কারণে বগুড়ার ছয়টি আসনেই কার্যত অনুপস্থিত ছিল বিএনপি। ২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন, ২০১৮ সালে রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালে আন্দোলনের কারণে নির্বাচনে না যাওয়ায় বগুড়া আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে যায়, আর ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে বগুড়ায় ফের তৈরি হয় বিএনপির ‘দুর্গ’ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, গাবতলী ও শাজাহানপুর নিয়ে গঠিত বগুড়া-৭ আসনটি বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহ্যবাহী আসন। এখানে তিনি একাধিকবার এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি গাবতলী হওয়ায় এই এলাকা বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই বিবেচিত।
প্রার্থী ঘোষণা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র
বগুড়ার ছয়টি আসনের মধ্যে এবার চারটি দল—জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাসদ ও গণতন্ত্র মঞ্চ—তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে।
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর)
ঐতিহ্যগতভাবে বেগম খালেদা জিয়ার আসন হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৭-এ এবারও তাকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত এখানে টানা জিতেছেন তিনি। তার শূন্য করা আসনে বারবার জয়ী হয়েছেন স্থানীয় নেতা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, একবার জিতেছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা মওদুদ আহমদ।
এ আসনে জামায়াত প্রার্থী করেছে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানীকে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন থেকে শফিকুল ইসলাম ও বাসদ থেকে শহিদুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
গোলাম রব্বানী এর আগেও খালেদা জিয়ার সঙ্গে নির্বাচনে লড়েছেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে খালেদা জিয়া পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৯ ভোট, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাম রব্বানী পেয়েছিলেন ৪৬ হাজার ৯১৭ ভোট।
এ বিষয়ে গোলাম রব্বানী বলেন, “এর আগেও আমি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি—এটা আমার সৌভাগ্য। এবারও তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পেরে আমার কর্মীরা উজ্জীবিত। ভোটারদের মধ্যেও সাড়া মিলছে। শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয় আল্লাহর ওপর নির্ভর।”
বগুড়া-৬ (সদর)
বগুড়া-৬ আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সব নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন খালেদা জিয়া। এবার এই আসনে বিএনপি প্রার্থী করেছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। জীবনে প্রথমবারের মতো তিনি সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান সোহেল। অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন—
- ইসলামী আন্দোলনের আ.ন.ম. মামুনুর রশীদ
- বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আবদুর রউফ
- বাসদের অ্যাডভোকেট দিলরুবা নুরী
বিএনপির জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, “তারেক রহমান বগুড়া থেকে নির্বাচন করবেন—এটা আমাদের জন্য গর্বের। তার প্রথম নির্বাচনকে ঘিরে কর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”
জামায়াত প্রার্থী সোহেল বলেন, “গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো নির্বাচন। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। জনগণ যাকে ভালো মনে করবে তাকেই বেছে নেবে—এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।”
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ছন্দে ফিরছে বগুড়া। শীর্ষ নেতাদের মাঠে নামা এবং বহুদলের অংশগ্রহণ ২০২৬ সালের নির্বাচনে এই জেলায় নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


