28.4 C
Dhaka
Wednesday, June 10, 2026

পৃথিবীকে জয় করতে হলে রাসূল (সা.)–এর শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণের বিকল্প নেই : ড. মিজানুর রহমান আজহারী

advertisment
- Advertisement -spot_img

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও লেখক ড. মিজানুর রহমান আজহারী বলেছেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানবতার আদর্শ শিক্ষক ও পর্যবেক্ষক। তাঁর শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারলেই একটি জাতি শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। পৃথিবীকে জয় করতে হলে রাসূল (সা.)–এর শিক্ষা পদ্ধতির বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত ‘হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর শিক্ষা পদ্ধতি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আজহারী।

তিনি বলেন, রাসূল (সা.) সাহাবি ও শিশুদেরকে পিতৃস্নেহে শিক্ষা দিতেন। যেমন বাবা-মা সন্তানের প্রতি আদর-যত্ন নিয়ে পাঠ দেন, তিনিও তেমনভাবে শিক্ষা দিতেন। তিনি বিষয়গুলো সহজ, সাবলীল ও প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করতেন। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে কঠোরকারী বা জটিলকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি; বরং সহজ শিক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে।’ তাঁর শিক্ষা মানুষকে আশাবাদী করে তুলত।

আজহারী আরও বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.) শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে কঠোরতা পছন্দ করতেন না। তিনি বলতেন, ‘দ্বীনকে সহজ করো, কঠিন করো না এবং মানুষকে দ্বীন থেকে বিমুখ করে দিও না।’ তিনি ধীরে, পরিমিত ও স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতেন, যাতে শ্রোতারা সহজেই তা মুখস্থ করতে পারে। আদর্শ শিক্ষকের সব বৈশিষ্ট্য তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ছিল।

রাসূল (সা.)–এর শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে তিনি বলেন, তাঁর শিক্ষা ছিল দুই ধরনের—প্রাইভেট ও পাবলিক। তিনি উট, খচ্চর বা গাধার পিঠে কাউকে নিয়ে ব্যক্তিগত আলোচনা করতেন এবং খুতবা বা সমাবেশে দিতেন গণশিক্ষা।

ড. আজহারী বলেন, রাসূল (সা.) অধিকাংশ সময় প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে শিক্ষা দিতেন। সাহাবিদের প্রশ্ন করতেন, সঠিক উত্তর দিলে উৎসাহ দিতেন, আবার অ্যাসাইনমেন্টও দিতেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তিনবার করে বলতেন, কসম করতেন এবং হাত-পায়ের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করতেন।

তিনি আরও বলেন, রাসূল (সা.) প্রত্যেকের সক্ষমতা ও দুর্বলতা বুঝতেন। তাই একই প্রশ্নের উত্তর ভিন্ন ভিন্নভাবে দিতেন। প্রশ্নের ওপর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে জ্ঞানার্জনের আগ্রহ বাড়াতেন। ভুল সংশোধন করতেন অত্যন্ত সুন্দর ও শিক্ষণীয়ভাবে।

রাসূল (সা.) ছিলেন অসাধারণ পর্যবেক্ষক—উল্লেখ করে আজহারী বলেন, তিনি জিবরাঈল (আ.)–এর কাছে কোরআন শুনাতেন এবং তাঁর কাছ থেকেও তেলাওয়াত শুনতেন। ভাষা শিক্ষায় উৎসাহ দিতেন। ইহুদিদের সঙ্গে চিঠিপত্র আদান–প্রদানের প্রয়োজনে তিনি এক সাহাবিকে হিব্রু ভাষা শেখার নির্দেশও দিয়েছিলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আ. ন. ম. শামসুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ