28.5 C
Dhaka
Wednesday, June 10, 2026

দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য কমফোর্ট জোন তৈরি করতে পারিনি: জামায়াত আমির

advertisment
- Advertisement -spot_img

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “রাজনীতির বাইরে কোনো অর্থনীতি নেই; বরং রাজনীতিই সব নীতি ও কাঠামোকে নিয়ন্ত্রণ করে।” তিনি বলেন, যেমন শরীরের সঠিক কার্যক্রম মস্তিষ্কের ওপর নির্ভরশীল, তেমনি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও সুশাসন ও নীতিনির্ধারণের ওপর নির্ভরশীল।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনীতি সম্মেলন ২০২৫’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য কাঙ্ক্ষিত সুবিধা এবং একটি স্থিতিশীল কমফোর্ট জোন তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি প্রশ্ন রাখেন— “এখন যা পারিনি, তা কি আর হবে না?”

‘ট্যাক্স দিতে হয় ভিক্ষুক থেকে শিল্পপতি—সবারই’

তিনি বলেন, জাতীয় উন্নয়ন মূলত দুই উৎস থেকে আসে— রাজস্ব আয় এবং বিদেশি ঋণ। ট্যাক্সের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “একজন ভিক্ষুক সারাদিন ১০–২০ টাকা যাই উপার্জন করুক, বাজারে গিয়ে পণ্য কিনলেই তাকে কর দিতে হয়। এমনকি নবজাতক শিশুর জন্য কিছু কিনলেও সেখানে ট্যাক্স যুক্ত থাকে। অর্থাৎ জন্মের মুহূর্ত থেকেই সে পরোক্ষভাবে ট্যাক্সপেয়ারে পরিণত হয়।”

বিদেশি ঋণের বোঝাও সমানভাবে বহন করে নবজাতক থেকে বৃদ্ধ— সবাই, বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রান্তিক শিশুদের উপেক্ষায় ক্ষতি দেশেরই

জামায়াত আমির বলেন, দেশের বহু প্রান্তিক শিশুর শিক্ষার সুযোগ নেই। তারা কয়েক ক্লাস পড়েই জীবিকার তাগিদে কাজে যোগ দেয়। অথচ তাদের মধ্যেই ভবিষ্যতের অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বা জাতীয় নীতিনির্ধারক লুকিয়ে থাকতে পারে।
“তাদের পরিচর্যা করবে কে? এটা সমাজ ও সরকারের যৌথ দায়িত্ব,”— বলেন তিনি।

দুর্নীতির মূল উৎপাটনে জোর

দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, সমাজে লালফিতা, অব্যবস্থাপনা ও অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য আছে।
তিনি বলেন, “আমরা দুর্নীতির পাতা-ডাল কাটি; কিন্তু কাণ্ড অক্ষত থাকে। সবাই দুর্নীতিকে ঘৃণা করে, কিন্তু অনেক সময় সিস্টেমই মানুষকে বাধ্য করে।”

ডায়াসপোরা ও বিদেশফেরত মেধাবীদের কাজে লাগানোর আহ্বান

তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু মেধাবী প্রবাসী দেশে ফিরে এসেছেন দেশের জন্য কাজ করতে।
“আমরা যদি প্রবাসীদের আস্থা ফেরাতে পারি, তারা দেশে ফিরে এসে নেতৃত্ব দিতে পারবেন,”— বলেন তিনি।

মসজিদের ইমাম নিয়োগেও লেনদেন—সমাজের অবনতি

সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মসজিদের ইমাম নিয়োগ করতেও এখন লেনদেন হয়। সমাজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে?”

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ