15 C
Dhaka
Friday, January 16, 2026

ফজলুর রহমানের ওকালতির সনদ আছে নাকি, জানতে চাইল ট্রাইব্যুনাল

advertisment
- Advertisement -spot_img

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানিতে তার পরিচয় ও আইন পেশায় যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (৩০ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের প্যানেল এ বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করেন। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালের প্রশ্ন : ‘‘ওকালতির সনদ আছে নাকি?’’

শুনানির শুরুতেই প্রসিকিউশনের কাছে জানতে চান ট্রাইব্যুনাল—
“ফজলুর রহমান কে? তার ওকালতির সার্টিফিকেট আছে নাকি? প্র্যাকটিস করেন?”

প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন গাজী এমএইচ তামিম ও মিজানুল ইসলাম। তারা জানান, ফজলুর রহমান নিজেকে ৪৪ বছর ধরে আইন পেশায় থাকার দাবি করলেও তাদের যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায় তিনি ১৯৯২ সাল থেকে প্র্যাকটিস করছেন—অর্থাৎ প্রায় ৩৩ বছর।

এ সময় ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করে—
“উনি কি আসলেই প্র্যাকটিস করেন? প্র্যাকটিস করলে এমন কথা বলা যায় না।”

‘রায় মানি না’—এ বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল: ট্রাইব্যুনাল

টকশোতে দেওয়া মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাইব্যুনাল আরও বলে—
“আইন, রায় বা বিচারকের সমালোচনা করা যায়। কিন্তু ‘রায় মানি না’—এটা শুধু আদালত অবমাননিই নয়, রাষ্ট্রদ্রোহিতাও।”

৮ ডিসেম্বর সশরীরে হাজিরার নির্দেশ

ট্রাইব্যুনাল ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে শোকজ নোটিশ জারি করে। তাকে আগামী ৮ ডিসেম্বর সশরীরে হাজির হয়ে নিজের ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা ও বার কাউন্সিলের সনদ সঙ্গে আনতেও বলা হয়েছে।

কী কারণে অভিযোগ?

২৬ নভেম্বর প্রসিকিউশন এ অভিযোগ আনে। তার আগের ২৩ নভেম্বর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ‘মুক্তবাক’ টকশোতে অংশ নিয়ে ফজলুর রহমান শেখ হাসিনার রায় ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
৪৯ মিনিটের ওই টকশোর ভিডিও পেনড্রাইভে জমা দেয় প্রসিকিউশন এবং শুনানিতে এর কিছু অংশ বাজানো হয়।

ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়—
“আমি প্রথম দিন থেকেই বলছি এই কোর্ট মানি না… এই কোর্টের বিচার মানি না… এই ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচার হতে পারে না।”

এছাড়া তিনি দাবি করেন—
“প্রসিকিউশনের সবাই শিবির সমর্থিত।”

ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ

প্রসিকিউটর তামিম ট্রাইব্যুনালকে জানান, আইন না বোঝার কারণেই ফজলুর রহমান এমন মন্তব্য করেছেন। তখন ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করে—
“এই ট্রাইব্যুনাল ১৯৭৩ সালের আইনে গঠিত। এ আইনে ১৯৭৩ সালের আগে ও পরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা যায়। প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালের অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার পর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগগুলোকে গুরুতর বলে আখ্যা দেয় এবং এ বিষয়ে শুনানির দিন হিসেবে আজকের তারিখ নির্ধারণ করে।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ