ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করীম বলেছেন, ক্ষমতার লোভে কেউ যেন জাতীয় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রচার না করেন। তিনি দাবি করেন, মাঠের বাস্তবতা প্রমাণ করছে— জনগণ আন্দোলনরত ৮ দলের পাঁচ দফা দাবির পক্ষে ইতোমধ্যেই রাজপথে নেমে এসেছে।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে খুলনা মহানগরীর শিববাড়ী বাবরী চত্বরে জামায়াতে ইসলামীসহ আন্দোলনরত আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রেজাউল করীম বলেন, “বারবার আমাদের বিরুদ্ধে বলা হয়েছে— আমরা নাকি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছি বা নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছি। অথচ মাঠে তাকালেই বোঝা যায়, আমরা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। দেশের সুরক্ষা, মানবতা, কল্যাণ ও মুক্তির জন্য পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে জনগণ রাজপথে রয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, ফেব্রুয়ারির আসন্ন নির্বাচন নিয়ে হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে কিছু মহল বুঝে গেছে— তাদের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে। তিনি বলেন, “এখন আপনারাই নির্বাচনে পেছনে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করছেন— এমন সিগনাল আমরা পেয়েছি। কিন্তু ভালো করে জেনে রাখুন, জনগণের মতামত আপনাদের পক্ষে নেই। গুন্ডামি, সেন্টার দখল, সন্ত্রাস দেখিয়ে ক্ষমতার চেয়ারে বসবেন— সে দিন আর নেই। বাংলাদেশের মানুষ এখন সজাগ।”
চরমোনাই পীর আরও বলেন, “দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার— আর সম্ভব নয়। ইনশাআল্লাহ, তা আর হতে দেওয়া হবে না। ভাই, মা-বোনদের বলব— আমরা যেন চাঁদাবাজদের সহযোগী না হই। যারা মায়ের কোল সন্তানহারা করে, যারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে— তাদের সহায়তা করা যাবে না।”
তিনি বলেন, “একাত্তরে দেশ স্বাধীন হয়েছিল তিনটি মৌলিক আদর্শ নিয়ে— সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু গত ৫৩ বছরে যারা দেশ চালিয়েছে, তারা একটিরও বাস্তবায়ন করেনি। জনগণকে ধোঁকা দিয়ে দেশকে দুর্নীতি ও লুটপাটে শীর্ষে তুলেছে। মামলা-হামলায় লাখো পরিবারকে বিপর্যস্ত করেছে, দেশের টাকা পাচার করে বিদেশে বেগমপাড়া বানিয়েছে।”
রেজাউল করীম বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই ও ৫ আগস্টের আন্দোলনে হাজারো মানুষ জীবন দিয়েছে, চোখ হারিয়েছে, পঙ্গু হয়েছে— নতুন করে দেশকে মুক্ত করার জন্য। জনগণ আর প্রতারণা মেনে নেবে না।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন—
মাওলানা মামুনুল হক (আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস),
মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন (সিনিয়র নায়েবে আমির, খেলাফত মজলিস),
মুফতি মুসা বিন ইজহার (মহাসচিব, নেজামে ইসলাম পার্টি),
মাওলানা ইউসুফ সাদেক হক্কানী (মহাসচিব, খেলাফত আন্দোলন),
ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান (সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র, জাগপা),
অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন (চেয়ারম্যান, বিডিপি),
অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল আউয়াল (নায়েবে আমির, ইসলামী আন্দোলন),
অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ (মহাসচিব, ইসলামী আন্দোলন),
ড. হামিদুর রহমান আজাদ (সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াতে ইসলামী),
অধ্যাপক ইকবাল হোসেন (সাধারণ সম্পাদক, জাগপা),
অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন (কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব, খেলাফত মজলিস) প্রমুখ।


