বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অসুস্থতার প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান জানান, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তাঁর ‘একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়’। এর মধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা—নিরাপত্তাহীনতার কারণেই তিনি দেশে ফিরছেন না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমান দেশে প্রবেশ করলে তাঁকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। এমনকি প্রয়োজন হলে তিনি স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) এর নিরাপত্তাও পেতে পারেন। বিমানবন্দর থেকে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি সিদ্ধান্ত সময়মতো জানানো হবে বলেও সূত্রের দাবি।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা সমমর্যাদার ব্যক্তিরা এসএসএফ নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। সম্প্রতি সরকার বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে “অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (VVIP)” ঘোষণা করে এসএসএফ নিরাপত্তা দিয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও সম্পূর্ণ নিশ্চিত করা হবে।
দেশে ফেরার সম্ভাবনা ও চলমান প্রক্রিয়া
সূত্র জানিয়েছে, গুঞ্জন থাকলেও বুধবার (৩ ডিসেম্বর) পর্যন্ত তারেক রহমান দেশে ফেরার কোনো উদ্যোগ নেননি। বুধবার খালেদা জিয়ার কয়েকটি মেডিকেল টেস্ট হয়। যদি রিপোর্ট সন্তোষজনক না হয় এবং তাঁকে বিদেশ নেওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়, তবে তারেক রহমান তাৎক্ষণিক দেশে ফিরতে পারেন। সামগ্রিক হিসাব অনুযায়ী, তিনি ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আমরা আশা করি তিনি শিগগিরই দেশে ফিরবেন।”
পাসপোর্ট ও ট্রাভেল পাস প্রসঙ্গ
লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট নবায়ন করেননি। দেশে ফিরতে হলে তাঁকে বাংলাদেশি বা অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট কিংবা ট্রাভেল পাস ব্যবহার করতে হবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, তারেক রহমান চাইলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে, তবে এখন পর্যন্ত তিনি আবেদন করেননি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশে কারোই কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। তারেক রহমানের ক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয় সে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
ওদিকে হাসপাতালে খালেদা জিয়া
গত ২৩ নভেম্বর থেকে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কয়েক দফা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপরই মূলত নির্ভর করছে তারেক রহমানের দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত।


