সুপ্রিম কোর্টের আজকের আদেশের ফলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতার ব্যাপারে আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও শপথ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে পাঠানো রেফারেন্স–মতামতের প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিট সরাসরি খারিজ করে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেই আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বিভাগ আজ এই আদেশ দেন। এ মামলায় ইন্টারভেনার হিসেবে যুক্ত ছিলেন শিশির মনির।
আদেশের পর শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান সরকারের বৈধতার প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে দায়ের করা লিভ টু আপিলে আজ আদেশ হয়েছে। এই আদেশটি সর্বসম্মতভাবে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠিত হলো যে বর্তমান সরকার জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে গঠিত। পাশাপাশি সরকার যে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, তা মূলত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।
তিনি আরও বলেন, উচ্চ আদালত দেশের সংবিধানের এই মূলমন্ত্র আজ আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই আদেশের ফলে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড—বিশেষ করে তিনটি ম্যান্ডেট: নির্বাচন, বিচার ও সংস্কার—সম্পর্কিত বৈধতার বিষয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না।
শিশির মনির বলেন, আজকের আদেশের ফলে বাংলাদেশের সংবিধানে যে শূন্যতা বা ভ্যাকুয়ামের কথা অনেকে তুলে ধরেছিলেন, সেই ভ্যাকুয়ামের আর কোনো জায়গা থাকবে না। সুপ্রিম কোর্টের আদেশের মাধ্যমে এটি আজ প্রমাণিত হলো।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের কাছে মতামত চান। আপিল বিভাগের সেই মতামতের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা শপথ নেন। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে ‘সুপ্রিম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার’ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও শপথ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে পাঠানো রেফারেন্স ও মতামতের প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ গত বছরের ডিসেম্বরে রিটটি করেন। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত ১৩ জানুয়ারি রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেন। আর সেই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ।


