ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়্ছেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদির মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া জরুরি ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করার কথা জানান এবং সেটিকে শক্তিতে পরিণত করার আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণানের কাছ থেকে তিনি হাসপাতাল থেকে ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর পান। ভাষণে তিনি বলেন,
“ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের এই অমর সৈনিককে মহান রাব্বুল আলামিন শহীদ হিসেবে কবুল করুন—এই দোয়া করি।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, হাদির স্ত্রী এবং একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব সরকার বহন করবে।
হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“তার প্রয়াণ আমাদের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিসরে এক অপূরণীয় ক্ষতি।”
তিনি নিহতের পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানান।
এই হত্যাকাণ্ডকে নৃশংস আখ্যা দিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,
“এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে কোনো শৈথিল্য দেখানো হবে না।”
তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদি শুধুমাত্র প্রতিবাদের প্রতীক ছিলেন না, তিনি দেশপ্রেম, ধৈর্য ও দৃঢ়তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তিনি দেশবাসীকে বলেন,
“আপনারা ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখুন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রাষ্ট্র আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
প্রধান উপদেষ্টা অপপ্রচার ও গুজবে কান না দেয়ার এবং কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান।
ভাষণের শেষভাগে তিনি আরও বলেন,
“যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের ফাঁদে পা না দিয়ে আসুন—আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাই। এটাই শহীদ হাদির প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা।”


