জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী জিএম কাদের বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি মিলে সরকার গঠন হয়েছে এবং এখন তাদের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে মিলে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এতে নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনো নিরপেক্ষতা থাকছে না, ফলে নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যাচ্ছে না।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) নগরীর সেনপাড়াস্থ পৈত্রিক বাড়ি স্কাইভিউতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জিএম কাদের বলেন, “সরকার, এনসিপি ও জামায়াত মিলে নির্বাচনের ব্যবস্থাপনা করছে। এতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে না। অনেক প্রার্থী এলাকায় যেতে পারছেন না, অনেকে জেলখানা থেকেই নির্বাচন করছেন, আবার অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির পক্ষে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। দেশ বাঁচাতে জাতীয় পার্টি এগিয়ে এসেছে। দেশের মঙ্গলের জন্য মানুষ লাঙল মার্কায় ভোট দিতে উদগ্রীব। জনগণের উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ব্যাপক সাড়ায় তিনি উজ্জীবিত হয়েছেন বলে জানান।
জিএম কাদের বলেন, “বিগত দিনে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। বর্তমান সরকারকে ছাত্র-সমন্বয়করা নিয়োগ দিয়েছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্র-সমন্বয়করা দল গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আবার ছাত্র-সমন্বয়কদের অভিভাবক দাবি করেছে জামায়াত। তাই সরকার, এনসিপি ও জামায়াত—এই তিনটি দল মিলে নির্বাচন পরিচালনা করছে।”
তিনি বলেন, সকল দল ও মানুষের অংশগ্রহণ না থাকায় নির্বাচন অবাধ হচ্ছে না। সবার জন্য সমান সুযোগ না থাকায় নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলা যায় না। জাতীয় পার্টির অনেক প্রার্থী এলাকায় যেতে পারছেন না, অনেকে জেলখানা থেকে নির্বাচন করছেন এবং অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।
গণভোট প্রসঙ্গে জিএম কাদের বলেন, সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী করতে সরকারি অর্থ ও সরকারি কর্মচারী ব্যবহার করছে। যারা এর বিপক্ষে কথা বলছে, তাদের ফ্যাসিবাদের দোসর বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, “গণভোটে ‘না’ ভোটের প্রচার করলে যদি স্বৈরাচারের দোসর হতে হয়, তাহলে যারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলছেন, তারা নাৎসিবাদের দোসর।”
তিনি আরও বলেন, সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করে দাবি করবে জনগণ তাদের সংস্কার সম্পন্ন করার ম্যান্ডেট দিয়েছে। এই সংস্কার সম্পন্ন করতে তাদের ছয় মাস, ছয় বছর বা ষাট বছরও লাগতে পারে। ততদিন তারা ক্ষমতায় থাকবে এবং সংসদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংসদ সদস্যদের তাদের নির্দেশ অনুযায়ী চলতে হবে।
জিএম কাদের বলেন, “যেকোনোভাবে গণভোটে ‘না’ ভোটকে জয়ী করতে হবে। জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গত দেড় বছরে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। দেশে চাকরি নেই, নিরাপত্তা নেই, কাজ নেই। আমাদের গর্বের দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।


