সরকারি উদ্যোগে গঠিত অন্তর্বর্তী গুম কমিশনে মোট ১,৬০০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৩৮৩টি অভিযোগের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছে কমিশন। যাচাইকৃত অভিযোগগুলোর মধ্যে র্যাবের বিরুদ্ধে ১৭২টি, সিটিসি’র বিরুদ্ধে ৩৭টি, ডিবির বিরুদ্ধে ৫৫টি, ডিজিএফআইয়ের বিরুদ্ধে ২৬টি, পুলিশের বিরুদ্ধে ২৫টি এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ৬৮টি অভিযোগ উঠেছে।
কমিশনের তদন্তে আরও জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ,আলাদা ৮ টি আয়নাঘর এর সন্ধান পেয়েছে,যেখানে গুম হওয়া ব্যক্তিদের বছরের পর বছর ধরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) গুলশানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গুম কমিশনের চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এ তথ্য প্রকাশ করেন।
কমিশনের আরও জানিয়েছে, এ ধরনের গুম ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সাত সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে এবং অভিযুক্ত অন্যান্যদেরও ধাপে ধাপে তলব করা হবে। তারা অভিযোগ করেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের বন্দিশালাগুলো গোপনে ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং সেখানে থাকা আলামত নষ্ট করা হয়েছে। আলামত ধ্বংস না করতে সতর্ক করেছে কমিশন, অন্যথায় দোষীদের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
গত ২৭ আগস্ট গঠিত গুম কমিশনকে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালের গুমের অভিযোগ গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ভুক্তভোগীরা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এই কমিশনে অভিযোগ জমা দেন।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ফরিদ আহমেদ শিবলী, মানবাধিকারকর্মী নূর খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাবিলা ইদ্রিস এবং মানবাধিকারকর্মী সাজ্জাদ হোসেন।


