হাইকোর্ট ঘোষণা করেছে যে কুইক রেন্টাল সংক্রান্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ এর ৯ ধারায় দায়মুক্তি অবৈধ এবং অসাংবিধানিক।
আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালত বলেন, এই ধারায় দায়মুক্তির বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো ব্যক্তি বা মন্ত্রীর একক ক্ষমতা গ্রহণযোগ্য নয়।
আইনটি নিয়ে ২০১০ সালের ৯ ধারায় দায়মুক্তি ও ক্রয়সংক্রান্ত ৬(২) ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটের শুনানিতে ড. শাহদীন মালিক ও ব্যারিস্টার সিনথিয়া ফরিদ অংশ নেন।
এর আগে, গত ৭ নভেম্বর শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ১৪ নভেম্বর দিন ধার্য করে। রিটে বলা হয়, এই আইন সংবিধানের ৭, ২১, ২৬, ২৭, ৩১, ৪২, ৪৪, ৪৬, ১৪৩ এবং ১৪৫ ধারা লঙ্ঘন করেছে।
হাইকোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং বিভাগের সচিব, অর্থ সচিব, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে রুলের আওতায় আনে। রুলে জানতে চাওয়া হয়, কেন আইনটির ৬(২) এবং ৯ ধারাকে আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না।
আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, দায়মুক্তির বিধান অবৈধ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একক ক্ষমতার সুযোগ সংবিধানের পরিপন্থী। এই রায়ের ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


