২০০৫ সালে শেষবার বক্সিং রিংয়ে নামেন মাইক টাইসন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর আবারও বক্সিং লড়াইয়ে ফিরেছেন তিনি। তবে এবার প্রতিপক্ষ কোনো পেশাদার বক্সার নয়, তার সামনে ছিলেন ইউটিউবার ও বক্সার জেক পল। যদিও এই ম্যাচেও জয়ের দেখা পাননি বক্সিংয়ের কিংবদন্তি টাইসন।
টাইসনের সঙ্গে পলের বয়সের পার্থক্য ৩১ বছর। যখন টাইসন ২০০৫ সালে অবসর নেন, তখন জেক পলের বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর। আজ সেই পলই টাইসনের প্রতিপক্ষ। তবে ৫৮ বছর বয়সী টাইসন বয়সের ভারে ছাপিয়ে যেতে পারেননি তরুণ পলকে। সরাসরি পয়েন্টের ব্যবধানে হেরে যান তিনি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্লিংটনের এটিএন্ডটি স্টেডিয়ামে, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায়, টাইসন ও পলের এই লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় রাউন্ডের পর থেকেই টাইসন ক্লান্ত হতে শুরু করেন। তার খেলোয়াড়ি জীবনে ৬টি ম্যাচে হারের অভিজ্ঞতা ছিল। এবার সেটির সঙ্গে যোগ হলো ইউটিউবার জেক পলের কাছে হার।
ম্যাচের আগে টাইসনের হার নিয়ে অনেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে টাইসন তখন উত্তেজিত হয়ে পলকে চড় মেরেও বসেন। কিন্তু ম্যাচ শেষে টাইসনের প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারেই উল্টো। তিনি পলকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানান।
টাইসন ও পলের এই লড়াই নিছক প্রদর্শনী ম্যাচ নয়। টেক্সাস অ্যাথলেটিক কমিশনের স্বীকৃতির কারণে এটি তাদের পেশাদার পরিসংখ্যানে যুক্ত হয়েছে। ৮ রাউন্ডের ম্যাচ শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৭৯-৭৩, যা সর্বসম্মতভাবে জেক পলের পক্ষে যায়।
১৯৮৫ সালে পেশাদার বক্সিংয়ে যাত্রা শুরু করেন টাইসন। রিংয়ে তার দাপটের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন ‘লৌহমানব’ নামে। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নের খেতাব জিতে নেন, যা তাকে ইতিহাসের কনিষ্ঠতম হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন হিসেবে জায়গা করে দেয়।
টাইসনের এই ফিরে আসা তার অনুরাগীদের জন্য আবেগের হলেও, ফলাফল তাদের জন্য হতাশাজনক। অন্যদিকে, জেক পলের জন্য এটি তার ক্যারিয়ারে বড় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।


