29.1 C
Dhaka
Sunday, June 14, 2026

শহীদ ও আহত ভাইদের নিয়ে মামলা বাণিজ্য চলবে না – সারজিস আলম

advertisment
- Advertisement -spot_img

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদ এবং আহতদের নিয়ে এখন মামলা বাণিজ্য চলছে। তিনি দাবি করেছেন, এই ধরনের ধান্দাবাজি আমাদের সমাজে নতুন করে শুরু হয়েছে এবং এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সারজিস আলম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “এই ভুয়া মামলা এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নাম অন্তর্ভুক্তির ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য ক্ষতিকর। আমরা পুলিশের কাছে বারবার অনুরোধ করেছি, এসব বন্ধ করতে হবে। এটি শুধু রংপুরে নয়, সারা দেশের বিভিন্ন স্থানেই দেখা যাচ্ছে। শহীদদের সম্মান বজায় রেখে কোনো ধরনের বাণিজ্য হতে পারে না।”

তিনি আরও জানান, “এ ধরনের ব্যবসা চালানোর জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যদি কোনো মামলা ষড়যন্ত্রমূলক হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”

উত্তরবঙ্গ থেকে উপদেষ্টা নিয়োগের প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, “যে উপদেষ্টারা নিয়োগ পাচ্ছেন, তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। যদি কেউ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ না করে থাকেন, তবে তাদেরকে উপদেষ্টা হিসেবে দেখতে চাই না। যারা আন্দোলন করেছিলেন, যারা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদেরকেই এই দায়িত্ব দেয়া উচিত।”

তিনি মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর উপদেষ্টা হওয়ার বিষয়েও কঠোর মন্তব্য করেন। সারজিস বলেন, “ফারুকী কখনোই আন্দোলনের পাশে ছিলেন না। তিনি তার সময়ের ক্ষমতার কাছে তোষামোদ করেছেন, কিন্তু আন্দোলনের সময় তিনি নীরব ছিলেন। এমন ব্যক্তিরা উপদেষ্টা পদে আসবে কীভাবে, সেটা আমাদের প্রশ্ন।”

এছাড়া আখতার হোসেনকে উপদেষ্টা করার প্রসঙ্গে সারজিস বলেন, “আখতার ভাই আমাদের আন্দোলনের সাথে ছিলেন, তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে একেবারে সরাসরি দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি আমাদের সাথে ছিলেন, মঞ্চের সামনে এবং পিছনে, কখনো আমাদের ছেড়ে যাননি। তাই যদি উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে কাউকে উপদেষ্টা করা হয়, তাহলে আখতার ভাই উপযুক্ত ব্যক্তি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে ছিলাম। আমাদের এই আন্দোলনে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন, তাদেরই সম্মান দেয়া উচিত।”

এদিন রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ৬৬ শহীদ পরিবারের মধ্যে ৪৪ জনকে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়। বাকি ২২ পরিবার পর্যায়ক্রমে সহায়তা পাবেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন এবং ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ