অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট নেই উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “যৌক্তিক সময়ে সংস্কার শেষ করে নির্বাচন দিতে হবে। তা না হলে জনগণের মনে এই ধারণা তৈরি হতে পারে যে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থেকে যেতে চায়।”
সোমবার (১৮ নভেম্বর), জাতীয় প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছিল বিএনপির মওলানা ভাসানী মৃত্যুবার্ষিকী পালন জাতীয় কমিটি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্রদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। গত ১৫ বছরের আন্দোলনের শেষ গোলটা করেছে ছাত্ররাই। তারা বুক পেতে গুলি নিয়েছে, তাদের তরুণ ভ্যানগার্ড ভূমিকা পালন করেছে।” তিনি বিএনপির নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা অনেক কষ্ট করেছেন, কিন্তু বুক পেতে দাঁড়াতে পারেননি। সাঈদের মতো সাহস দেখাতে হবে।”
জাতীয় নির্বাচনের তাগিদ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “বর্তমান সরকার নির্বাচিত নয়, তাদের ক্ষমতায় থাকা দেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই দ্রুত নির্বাচন হওয়া উচিত। বিএনপিও সংস্কারের কথা বলেছে, তবে তা হতে হবে যৌক্তিক সময়ে। না হলে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন দিতে দেরি হলে সমস্যার গভীরতা আরও বাড়বে। দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচনের বিকল্প নেই।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “সরকারের প্রশাসনে এখনো স্বৈরাচারের দোসররা রয়েছে। তারা সংস্কারে বাধা দিচ্ছে। অনেক আমলা দুর্নীতিতে জড়িত, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। ঘুষ ও দালালদের প্রভাব কমাতে হবে।”
মওলানা ভাসানীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ভাসানী সবসময় ধর্মীয় মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ধর্মীয় চেতনা বাদ দিয়ে এ দেশে কোনো কাজ সফল হবে না।”
জিয়াউর রহমানের সঙ্গে মওলানা ভাসানীর সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মওলানা ভাসানী জিয়াউর রহমানকে বলেছিলেন, ‘তুমিই পারবে পরিবর্তন আনতে। কারণ তুমি সৎ, দেশপ্রেমী।’ সেই অনুপ্রেরণায় জিয়াউর রহমান দেশ গঠনে কাজ করেছিলেন।”
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান। সঞ্চালনা করেন শামসুজ্জামান দুদু। বক্তারা মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক অবদান ও দেশের চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা করেন।
বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের অকার্যকারিতা, নির্বাচন ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং তরুণদের অবদানের গুরুত্ব উঠে এসেছে। পাশাপাশি তিনি প্রশাসনিক দুর্নীতি ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।


