প্রায় আড়াই বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো থামার কোনো লক্ষণ নেই। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে অস্ত্র ও সামরিক তহবিল দিয়ে সহায়তা করে আসছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন এই ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে এই সহায়তা হ্রাসের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ইউক্রেনের প্রতি সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহায়তা কমালে ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে হেরে যেতে পারে।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা কমায়, তবে আমাদের পক্ষে যুদ্ধে টিকে থাকা সম্ভব হবে না। আমরা লড়াই করব, আমাদের নিজস্ব সামর্থ্য রয়েছে, কিন্তু তা জয়ের জন্য যথেষ্ট নয়।”
জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্য এই যুদ্ধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চেয়ে শক্তিশালী এবং এই যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে পুতিনকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সম্প্রতি ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার জন্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা কড়া সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ যুদ্ধকে আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।
রাশিয়ার ২০২২ সালের আক্রমণ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের চারটি প্রদেশের আংশিক দখল নিয়েছে রুশ বাহিনী। দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন, এবং জাপোরিঝিয়া— এই অঞ্চলগুলোর দখলকৃত অংশের আয়তন ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের এক-পঞ্চমাংশ। এর মধ্যে রাশিয়া পূর্বাঞ্চলীয় রণাঙ্গনেও সাম্প্রতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে।
জেলেনস্কি ও তার প্রশাসনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন ধরে রাখা। কারণ, সামরিক সহায়তা ছাড়া রাশিয়ার বিপক্ষে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে।


