জ্বালানি তেলের মূল্য কমানোর সুযোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সঠিকভাবে মূল্য নির্ধারণ কাঠামোর সংস্কার করা গেলে তেলের দাম প্রতি লিটার ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে “বাজারভিত্তিক জ্বালানি মূল্য: সরকারের উদ্যোগ ও সম্ভাব্য সংশোধন” শীর্ষক সংলাপে সিপিডি তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তী ও প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট ফয়সাল কাইয়ুম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম।
সিপিডি জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দীর্ঘদিন ধরেই বড় মুনাফা করছে। তাদের ভর্তুকি প্রয়োজন হয় না। এই মুনাফা সঠিকভাবে সমন্বয় করা গেলে তেলের দাম ভোক্তাদের জন্য আরও সহনশীল করা সম্ভব। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ অন্যান্য খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সিপিডি বলেছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, বিইআরসি গণশুনানির মাধ্যমে গ্রাহকদের মতামত সংগ্রহ করবে এবং দ্রুত কার্যকর মূল্য নির্ধারণ নীতিমালা বাস্তবায়ন করবে।
সংলাপে আরও বলা হয়, বাজারভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করলে তেলের দাম ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা সম্ভব। তবে মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে বাড়তি খরচ হলে, সেটি পরবর্তীতে সমন্বয়ের সুযোগ রাখা উচিত।
প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, বিপিসি কেমন কাঠামো বা আইনের ভিত্তিতে তেলের দাম নির্ধারণ করে, তা অস্পষ্ট। ভোক্তারা এই প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট নন। ২০১৫ সাল থেকে বিপিসি কোনো ভর্তুকি পাচ্ছে না কারণ তারা মুনাফার মাধ্যমে নিজেদের ক্ষতি পূরণ করছে।
মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ভোক্তা স্বার্থ নিশ্চিত করা গেলে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। সিপিডি মনে করে, এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে।


