দেশের প্রধান সড়ক ও ফ্লাইওভারগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই নোটিশটি বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান জনস্বার্থে প্রেরণ করেন।
নোটিশটি পাঠানো হয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সচিব, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী সারাদেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চলাচল দিন দিন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠছে। এসব যানবাহন প্রথমে অলিগলিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে সড়ক-মহাসড়ক এমনকি ফ্লাইওভারে উঠে পড়ছে, যা সড়কে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করছে। অপ্রশিক্ষিত চালকদের খেয়ালখুশি মতো গাড়ি চালানোর কারণে পথচারী ও অন্য যানবাহনের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
যদিও ট্রাফিক আইন অনুযায়ী, এসব যানবাহনের লাইসেন্স থাকা প্রয়োজন, বেশিরভাগ চালকেরই কোনো বৈধ নথি নেই। এ কারণে ট্রাফিক পুলিশকে অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-র অক্টোবর মাসের প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে নোটিশে জানানো হয়েছে, ওই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭৭ জন প্রাণ হারান এবং ৪১৫ জন আহত হন। এর মধ্যে ৬৬ জন ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক এবং অটোরিকশার কারণে মারা গেছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহতদের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক চার্জ করার জন্য অবৈধভাবে গড়ে ওঠা গ্যারেজগুলো বিদ্যুতের অপচয় করছে। প্রতিদিন একাধিকবার চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় বিদ্যুতের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যা দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের প্রধান সড়ক ও ফ্লাইওভারে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চলাচল বন্ধে তিন দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নোটিশগ্রহীতাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
যানজট নিরসন, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এ ধরনের যানবাহন নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে দাবি করেন আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান।


