পানির সুষ্ঠু বণ্টন নিয়ে ফারাক্কা ছাড়াও আরও ৫৪টি অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যার দাবিতে কাজ করার কথা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি, বাংলাদেশের আয়োজনে “উজানে যৌথ নদীর পানি প্রত্যাহার: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয়” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ইউরোপে বহু বড় বড় নদী রয়েছে, যেমনটি জার্মানি থেকে শুরু হয়ে নেদারল্যান্ডস পর্যন্ত বিস্তৃত। এসব নদীতে জাহাজ চলাচল করে এবং রাজনৈতিক বিষয় থাকলেও পানির বণ্টন নিয়ে কোনো বিতর্ক ছিল না। ভারতের কোন যুক্তিই নেই বাংলাদেশের পানি আটকানোর। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভারতে পানি সংকট হলে তারা আমাদের স্লুইস গেট খুলে দেয়, আর সেখানে পানি কম থাকলে গেট বন্ধ করে দেয়। এই অস্থিরতা ও ইচ্ছামতো গেট নিয়ন্ত্রণের কারণে বাংলাদেশে পানি প্রবাহ ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে না, যা আমাদের কৃষি ও কৃষিকাজের জন্য সমস্যা তৈরি করছে। ফলে কৃষি জমি শুকিয়ে মরুভূমির মতো হয়ে যাচ্ছে, আর গ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেলও নিচে নেমে যাচ্ছে। আমাদের নদীগুলোর পানি যদি সঠিক সময়ে পাওয়ার ব্যবস্থা করা যায়, তবে কৃষি উৎপাদন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে।
ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনগণের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানির সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে আমরা ফারাক্কা ছাড়াও আরও ৫৪টি অভিন্ন নদীর জন্য ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে কাজ করব।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহমাদ, নিউইয়র্কের আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ টিপু সুলতান, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।


