29.2 C
Dhaka
Sunday, June 14, 2026

জাতীয় ঐক্যের সমর্থন দিয়ে ৫০ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

advertisment
- Advertisement -spot_img

শনিবার (৩০ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ফেসবুক পেজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি শেয়ার করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়। জনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এই পরিবর্তনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে। প্রশাসনের মূল কাজ হলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনীতির পুনর্গঠন, এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ সুগম করা।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সমর্থকরা বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের সহায়তায় দেশে বিভাজন সৃষ্টি এবং অস্থিরতা বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা মিথ্যা তথ্য, অপপ্রচার এবং সহিংসতা উসকে দিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের বিষয়ে অতিরঞ্জিত এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে একটি সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে সাইফুল ইসলাম নামে এক সরকারি কৌঁসুলিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দ্রুত তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের ফলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে, বাংলাদেশের জনগণ সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করছে এবং যে কোনো সহিংসতা প্রতিহত করছে। উল্লেখ করা হয়, এই হত্যাকারীরা কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নয়; বরং তারা শেখ হাসিনার এজেন্ট হতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতের আশ্রয় থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের বিরুদ্ধে হুমকি সৃষ্টি করছেন। তার সহযোগীরা এখনও দেশের অর্থনৈতিক গহ্বর থেকে ফায়দা লুটছে।

বিবৃতিতে সব গণতন্ত্রপন্থি শক্তিকে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়েছে, কোনো ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ কার্যকলাপ দেশের পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করবে।

বিবৃতিতে ধর্ম, আদর্শ, বা রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং সংহতি প্রদর্শন করাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ড. রুমি আহমেদ খান, ড. শামারুহ মির্জা, মেজর শাফায়াত আহমদ (অব.), এবং আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ