জনপ্রশাসনে কাঠামোগত পরিবর্তন ও মানসিকতার উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। সরকারি সেবার মান নিয়ে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ থাকায়, ‘ক্যাডার’ শব্দটির নেতিবাচক প্রভাব এড়িয়ে নতুন পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চায় সরকার।
রোববার (১ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ১২তম বৈঠক শেষে, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান জানান, সরকারি সেবার মান নিয়ে জনসাধারণের অসন্তোষ এখনো রয়েছে। ভূমি রেজিস্ট্রি এবং এসিল্যান্ড অফিসের মতো জায়গায় ঘুষ লেনদেন চলছে, যা পাবলিক হেয়ারিংয়ে উঠে এসেছে।
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মূয়ীদ চৌধুরী বলেন, “আমলাতন্ত্রের নেতিবাচক মানসিকতা প্রশাসনিক কাজকে পিছিয়ে দিচ্ছে। আমলারাই অনেক সময় নিজেদের ক্ষতি করছে।” তিনি আরও জানান, জনসাধারণের সেবার মান উন্নত করতে প্রশাসনের কাঠামোগত ও মানসিক পরিবর্তন জরুরি।
মাঠ পর্যায়ে জনগণের মতামত সংগ্রহ করে, ডিসেম্বরের মধ্যেই চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। জনসেবার মান বৃদ্ধিতে বিভিন্ন বিভাগে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হবে।
এদিকে, পদোন্নতি ও বেতন বৈষম্যসহ ৯ দফা দাবির বিষয়ে আলোচনার পর, ৪ ডিসেম্বরের ‘মহাসমাবেশ’ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ।
সচিব মোখলেস উর রহমান জানান, কর্মচারীদের দাবিগুলো যৌক্তিক হলেও সবকিছু একসঙ্গে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সমস্যার বিষয়টিও সমাধান করা হবে বলে তিনি জানান।
এ ধরনের পরিবর্তন জনগণের সেবার মান বাড়াতে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সবার নজর এখন সরকারের ওপর।


