বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি শ্বেতপত্র তৈরির জন্য গঠিত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। রবিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে এই প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
শ্বেতপত্রের খসড়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
১.সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা
২.মুদ্রাস্ফীতি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা
৩.বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক
৪.মূল্য ও চুক্তি ব্যবস্থাপনা
৫.ব্যক্তিগত বিনিয়োগের সুযোগ
৬.কর্মসংস্থান
প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এটিকে “ঐতিহাসিক দলিল” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “অর্থনীতির প্রতিটি খাত বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। আর্থিক খাতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ছিল আতঙ্কিত হওয়ার মতো। আমাদের সামনেই এসব ঘটেছে, কিন্তু কেউ তা নিয়ে কথা বলেনি।”
প্রতিবেদনে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচারের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, উন্নয়নের গল্প সাজানোর নামে পরিসংখ্যানকে কীভাবে বিকৃত করা হয়েছে, সেই বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, উন্নয়নের প্রচার চালানো হলেও অভ্যন্তরে চলছিল লুটপাটের মহোৎসব।
প্রতিবেদনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষণার ভূমিকা, বেক্সিমকো এবং এস আলম গ্রুপের ফাঁকা ব্যালেন্স শিটে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার বিষয়গুলোও উঠে এসেছে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং এর ফলে সাধারণ জনগণের ক্ষতির একটি সামগ্রিক চিত্র উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


