বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া রাজনৈতিক নিবন্ধন ফিরে পেতে আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনের শুনানি শেষে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির বেঞ্চ শুনানির সময় ধার্য করেন। জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। শুনানিতে জামায়াতের আইনজীবীরা দাবি করেন, “নিবন্ধন বাতিলের রিট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।”
২০১৩ সালের ১ আগস্ট, হাইকোর্টের রায়ে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর, নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করে দলটির নিবন্ধন বাতিল করে। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও সঠিক সময়ে প্রধান আইনজীবীর উপস্থিত না থাকায় ২০২২ সালে আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেয়। এর ফলে নিবন্ধন বাতিলের রায় বহাল থাকে।
চলতি বছরের ২২ অক্টোবর, আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি আগের খারিজ হওয়া আবেদনটি পুনরুজ্জীবিত করেন। ফলে দলীয় প্রতীকসহ নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার আইনি লড়াই চালানোর সুযোগ পায় জামায়াত।
২০১৩ সালের গণআন্দোলনের সময় জামায়াতে ইসলামী এবং এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তৎকালীন সরকার। তবে ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট, সরকার নতুন এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ৩ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই শুনানায় দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এবং নিবন্ধন পুনরুদ্ধারের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।


