27.5 C
Dhaka
Sunday, June 14, 2026

শীঘ্রই বাজারে আসছে নতুন ডিজাইন করা নোট ,থাকছে না শেখ মুজিব

advertisment
- Advertisement -spot_img

আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাজারে আসবে নতুন ডিজাইনের টাকা, যেখানে থাকছে বড় ধরনের পরিবর্তন। নতুন নোটে আর শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি থাকবে না। এর বদলে যোগ করা হবে দেশের ধর্মীয় স্থাপনা, বাঙালি ঐতিহ্য এবং ‘জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতি’। ইতোমধ্যে এই পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ২০, ১০০, ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোটের ডিজাইন পরিবর্তন হচ্ছে। আপাতত, এই চারটি নোটে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি থাকছে না এবং ভবিষ্যতে সব ধরনের নোট থেকেই তার ছবি সরিয়ে ফেলা হবে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বাংলাদেশ ব্যাংককে নতুন নোটের ডিজাইন প্রস্তাব জমা দেয়। তবে, নতুন নোট ছাপানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা ও নকশা উপদেষ্টা কমিটি, যার সভাপতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর। কমিটিতে চিত্রশিল্পীরাও রয়েছেন, যারা নোটের নকশা তৈরি করবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা জানিয়েছেন, নতুন টাকা ছাপানোর কাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে এবং আশা করা হচ্ছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন টাকা বাজারে আসবে।

টাকশালের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে শুধুমাত্র টেন্ডারের কাজ বাকি রয়েছে। টেন্ডারের কাজ শেষ হলেই নতুন নোট বাজারে চলে আসবে। বর্তমানে টাকা ছাপানো বন্ধ রয়েছে, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী আবার ছাপা শুরু হবে।

বাংলাদেশে টাকা ছাপানোর কাজটি করে দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড, যেটি টাঁকশাল নামে পরিচিত। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান ১৯৮৮ সালে প্রথম ১ টাকার নোট ছাপানোর মাধ্যমে মুদ্রণ কার্যক্রম শুরু করে। এরপর, ১০ টাকার নোটও একই বছর থেকে ছাপানো হতে থাকে।

নতুন নোটের নকশা চূড়ান্ত হলে, আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে কাগজ, কালি এবং প্লেট তৈরি করা হয়। বিদেশ থেকে প্লেট এনে টাঁকশালে মুদ্রণ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে নতুন নোট ছাপায় না। সাধারণত, একটি নোট ৪ থেকে ৫ বছর ব্যবহৃত হয়, এরপর সেটি পুনর্মুদ্রণ করা হয়। ছোট মানের নোট দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, কারণ এগুলি বেশি হাতবদল হয়।

প্রতি বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা মুদ্রণ করে, যা পরে বাজারে ছাড়ে। মুদ্রণ করা টাকাগুলি প্রথমে ব্যাংকের ভল্টে রাখা হয়, এবং পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী বাজারে প্রবাহিত করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রচলিত ১, ২, ৫, ১০, ২০, ৫০, ১০০, ৫০০ এবং ১০০০ টাকার মোট ১০টি কাগুজে নোট রয়েছে। এর মধ্যে ২ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ টাকা পর্যন্ত সব নোটেই শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি রয়েছে। কিছু নোটে তার ছবি দুপাশে রয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশে প্রচলিত ধাতব মুদ্রাগুলিতেও তার ছবি রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে নতুন নোট ছাপাতে খরচ হয়েছে ৩৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে খরচ ছিল ৩৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে খরচ ছিল ৩৪ হাজার কোটি টাকা। ২০২০ সালে ২০০ টাকার নোটে নতুন ডিজাইন চালু হয়, যাতে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির একটি নতুন রূপ প্রদর্শিত হয়।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ