নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হলে একটি নিরাপদ রাষ্ট্র ও সরকার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, তারা জনগণের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছিলেন। শুধু সড়কেই নয়, ঘরের ভেতরও মানুষ নিরাপদ ছিল না। ২০২৩ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সড়ক ও ঘরে, এমনকি মায়ের কোলে থাকা শিশুদেরও গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ রাজনীতির সড়কে রক্ত ও লাশ ফেলার কাজে নিয়োজিত ছিল, যার ফলে জনগণের জান-মাল সুরক্ষিত ছিল না।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে “নিরাপদ সড়ক চাই” (নিসচা) সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি অন্তবর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে ডেকে তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত, যাতে নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমকে হত্যার উদ্দেশ্যে ট্রাকচাপা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, একটি স্বাধীন দেশের পতাকা কখনও প্রতিবেশী রাষ্ট্র অবমাননা করতে পারে না, আর গণতান্ত্রিক দেশে অপর দেশের সহকারী হাইকমিশনার কার্যালয় ভাঙচুর করা উচিত নয়। নিরাপদ সড়কের জন্য নিরাপদ রাষ্ট্র প্রয়োজন, আর নিরাপদ রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ প্রতিবেশী। এই প্রতিবেশী শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো পৃথিবীর জন্যও হুমকি।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাঙালি জাতি একত্রিত। আমাদের পরিচয় ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মাধ্যমে নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি। অতীতে আমরা যেভাবে এক হয়ে অপশক্তির মোকাবিলা করেছি, ভবিষ্যতেও এক হয়ে তা করব।
নিরাপদ সড়ক চাই’র চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।


