বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ এবং ভারতীয় গণমাধ্যমে অসত্য ও উসকানিমূলক তথ্য প্রচার বন্ধের দাবি জানিয়েছে পেনিনসুলা ডায়ালগ অ্যান্ড জুলাই ৩৬ ফোরাম। রোববার ঢাকা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ফোরামের আহ্বায়ক নাজির শাহিন, সদস্য সচিব নাওয়িদ হোসেন এবং আহ্বায়ক কমিটির অন্যান্য সদস্য। ফোরামের আহ্বায়ক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পারস্পরিক আস্থাহীনতা কাটিয়ে সার্ককে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে হবে।
নাজির শাহিনের মতে, সমতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে আঞ্চলিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা জরুরি। এসময় ফোরাম বেশ কিছু দাবি তুলে ধরে।
ফোরামের প্রধান দাবি ও প্রস্তাবনা
১. ভারতের হস্তক্ষেপ বন্ধ: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
২. গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা: ভারতীয় গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অসত্য তথ্য প্রচার বন্ধ করা।
৩. পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি: ভ্রাতৃপ্রতীম সম্পর্ক গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া।
৪. পানি বণ্টন নিয়ে সমাধান: যৌথ নদীগুলোর পানি বণ্টনে ন্যায্য সমাধান নিশ্চিত করা।
৫. উসকানিমূলক প্রচার রোধ: সংখ্যালঘু ইস্যুতে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার প্রচেষ্টা বন্ধ করা।
৬. জুলাই বিপ্লবের বিচারের প্রস্তাবনা: পলাতক অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
৭. সীমান্তে হত্যা রোধ: সীমান্তে অবৈধ হত্যা বন্ধ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা।
৮. অবৈধ বিদেশি নাগরিক সমস্যা সমাধান: দেশে ওয়ার্ক পারমিটবিহীন বিদেশিদের ফিরিয়ে নেওয়া এবং বৈধদের করের আওতায় আনা।
৯. ১৯৭১-এর অপরাধের জন্য ক্ষমা: পাকিস্তানকে মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা।
১০. বকেয়া আদায়: পাকিস্তানের কাছ থেকে সব বকেয়া পাওনা আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
১১. প্রশাসনিক সংস্কার: প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা স্বৈরাচারের দোসরদের চিহ্নিত করা।
১২. সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখা: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
১৩. সুশাসন প্রতিষ্ঠা: স্বচ্ছ জবাবদিহিতার মাধ্যমে সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিত করা।
১৪. বেকারত্ব দূরীকরণ: দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা।
১৫. সার্ককে শক্তিশালী করা: সার্ককে ব্যবসায়িক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া।
১৬. দূতাবাসের নিরাপত্তা: বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাস ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ফোরাম মনে করে, এই দাবিগুলোর বাস্তবায়ন শুধু বাংলাদেশের উন্নতি নয়, বরং আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য অপরিহার্য। বক্তারা এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন।


