32.8 C
Dhaka
Wednesday, June 10, 2026

রাজস্ব ঘাটতিতে চলতি বাজেটে ব্যয় কমছে ৫৩ হাজার কোটি টাকা

advertisment
- Advertisement -spot_img

চলতি অর্থবছরে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ না হওয়ায় বড় ধরনের বাজেট কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাদ দিয়ে অর্থ সাশ্রয়ের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্ধারিত বরাদ্দের বাইরে নতুন অর্থ বরাদ্দ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট থেকে ৫৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় কমানো হবে।

সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের কো-অর্ডিন্যান্স কাউন্সিল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করেছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তা কমিয়ে ৭ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনছে।

কো-অর্ডিন্যান্স কাউন্সিলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৩ হাজার কোটি টাকা কমানো হবে। এনবিআরের কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। করবহির্ভূত আয় ৪৬ হাজার কোটি টাকার জায়গায় ৪০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজস্ব আদায়ে এই ঘাটতির জন্য প্রধানত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় আদায় কার্যক্রমে বিঘ্ন, আমদানিতে ধীরগতি, এবং নিত্যপণ্যের শুল্ক ছাড়কে দায়ী করা হচ্ছে।

এ বছর উন্নয়ন বাজেট ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হচ্ছে। এডিপির আওতায় থাকা ১ হাজার ৩২৬টি প্রকল্পের অনেকগুলিতে এখনো ব্যয় শুরু হয়নি। ফলে প্রকল্পের সংখ্যা সীমিত রেখে বৈদেশিক ঋণনির্ভর প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতিও আগের বছরের তুলনায় কম। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে অর্থ বিভাগ বেশ চাপে রয়েছে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, খাদ্য ভর্তুকি কমানো হবে না। তবে মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য নতুন যানবাহন ক্রয়, বিদেশ ভ্রমণ ও নতুন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ রাখা হবে। বিদ্যুৎ, পেট্রোল, ও জ্বালানিতে মোট বরাদ্দের ২০ শতাংশ খরচ স্থগিতের আওতায় আনা হয়েছে।

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী দেশের প্রবৃদ্ধি কমবে। এর ফলে রাজস্ব আহরণে আরও সংকট দেখা দিতে পারে। তিনি কর ফাঁকি রোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে এনবিআরকে পরামর্শ দিয়েছেন।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের বিরূপ প্রভাব ও দেশের মূল্যস্ফীতির চাপে সরকার অর্থ ব্যয়ে কৃচ্ছ সাধনের নীতি গ্রহণ করেছে। তবে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে উন্নয়ন ব্যয় সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ