32.8 C
Dhaka
Wednesday, June 10, 2026

আলু পেঁয়াজ আমদানির বিকল্প উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ,বিপাকে ভারত

advertisment
- Advertisement -spot_img

দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে ২৫ হাজার টন চিনি আমদানি করেছে, যা ভারতের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার বাংলাদেশ আলু ও পেঁয়াজের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস খুঁজছে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য উৎস হতে পারে পাকিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া.কম জানিয়েছে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চিনি আমদানির পর এবার আলু ও পেঁয়াজ আমদানির জন্য নতুন সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ফলে পাকিস্তান থেকে এই পণ্যগুলো আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের এই উদ্যোগের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, ভারতীয় বাজারে আলু ও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের রপ্তানি সীমিত করার সিদ্ধান্ত। ঐতিহ্যগতভাবে, বাংলাদেশ এই পণ্যগুলোর জন্য প্রধানত ভারতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে এখন বিকল্প উৎস হিসেবে পাকিস্তান, চীন, তুরস্ক, জার্মানি, মিসর এবং স্পেনের মতো দেশগুলোর কথা ভাবা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) ইতোমধ্যে বিকল্প সরবরাহকারীদের একটি তালিকা চিহ্নিত করেছে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, চীন, তুরস্ক এবং পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানির পাশাপাশি জার্মানি, মিসর ও স্পেন থেকে আলু সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম উদ্দিন বলেছেন, “বিটিটিসি আমদানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প উৎসের সুপারিশ করেছে। আমরা আমদানিকারকদের এই উৎসগুলো বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছি।”

বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য সম্পর্ক থাকলেও সম্প্রতি সম্পর্ক কিছুটা শিথিল হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির পরিমাণ ৭.২৪ লাখ টন হলেও, ক্রমবর্ধমান দাম এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই সম্পর্ক আরও জটিল হচ্ছে।

বাংলাদেশের এই উদ্যোগ মূলত অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টার অংশ। ভারতের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, ক্রমবর্ধমান দাম এবং রপ্তানি সীমিতকরণের কারণে বাংলাদেশ বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্পর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ