রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে মঙ্গলবার রাজশাহীর ভুবন মোহন পার্কে ‘দেশীয় পণ্য কিনে হও ধন্য’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং কষ্ট পেয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, “বাংলা, বিহার ও উড়িষার দখল নিতে এলে আমরা কী শুধু ললিপপ খাব?” রিজভী আরও যোগ করেন, “আপনাদের উদ্দেশ্য যদি চট্টগ্রাম নিয়ে হয়, তাহলে কি আমরা আমলকি চুষব?”
রিজভী বলেন, বিজেপি ভারতের মুসলিম বিদ্বেষী ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে। যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনই মতবাদে বিশ্বাস করেন, তখন বুঝা যায়, রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল উদ্দেশ্য এক এবং সেই উদ্দেশ্যে অনেকটা মিল রয়েছে। তিনি বলেন, “আপনাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, তারা চট্টগ্রাম দাবি করার কথা বলছেন। কিন্তু এটা একটি সার্বভৌম দেশের সার্বভৌম অঙ্গ দাবি করার চক্রান্ত।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ৩০ লাখ জীবনের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের স্বাধীনতা মূল্য দিতে হয়েছে অনেক মানুষের রক্ত, অনেক নারীর সম্ভ্রমহানির মাধ্যমে। পার্শ্ববর্তী দেশের কথায় মনে হয়, বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, কিছুই তাদের কাছে মূল্যহীন।” রিজভী বলেন, “এটা শুধু ভারতের জনগণ নয়, সম্প্রদায়িক শাসকদের বিরুদ্ধে আমাদের সরব হতে হবে।”
চিকিৎসার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “বাংলাদেশে ভালো চিকিৎসক রয়েছেন যারা দেশ ও বিদেশে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। আমাদের দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা মজবুত হলে, কাউকে ভারতে যেতে হবে না। টাঙ্গাইলের শাড়ি, কুমারখালির লুুঙ্গি-গামছা, রাজশাহীর সিল্ক সবই এক্সপোর্ট হয়। তাই আমরা কেন ভারতীয় পণ্যের উপর নির্ভর করব?”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈশা। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার, মহানগরের সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আসলাম সরকার, ওয়ালিউর রহমান রানা প্রমুখ।


