35.3 C
Dhaka
Wednesday, June 10, 2026

দেশ সঠিক পথে অগ্রসর হচ্ছে মনে করেন ৫৬% মানুষ

advertisment
- Advertisement -spot_img

দেশের রাজনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন ৫৬ শতাংশ নাগরিক, কিন্তু অর্থনীতির সঠিক গতিপথ নিয়ে আশাবাদী মাত্র ৪৩ শতাংশ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে পরিচালিত ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) দ্বিতীয় দফার ‘পালস সার্ভে’ থেকে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (পিআইবি) অনুষ্ঠিত ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশ: মানুষ কী ভাবছে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়। আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতামত দেন।

জরিপে অংশ নেওয়া ৪,১৫৮ জন উত্তরদাতার মধ্যে ৫৬ শতাংশ মনে করেন, দেশ রাজনৈতিকভাবে সঠিক পথে এগোচ্ছে। অন্যদিকে, ৩৪ শতাংশের মতে, দেশ ভুল পথে অগ্রসর হচ্ছে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে, ৪৩ শতাংশ দেশের অর্থনীতি সঠিক পথে চলছে বলে মনে করলেও ৫২ শতাংশ একমত নন।

রাজনৈতিক আস্থা ও অর্থনৈতিক হতাশা

আগস্টে করা পালস সার্ভের তুলনায় অক্টোবরে জনমতের পরিবর্তন স্পষ্ট। আগের জরিপে ৭১ শতাংশ মানুষ দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী থাকলেও, অক্টোবরে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সময়ে, অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ আরও কমে এসেছে। মূল্যস্ফীতি ও মন্দা প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা।

সহনশীলতা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল্যায়ন

জরিপে দেখা গেছে, জনমতের ৪৬ শতাংশের মতে দেশের সামাজিক সহনশীলতা বেড়েছে, তবে ৩১ শতাংশ সহনশীলতার ঘাটতি অনুভব করছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। ৪০ শতাংশ মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দুই বছর ক্ষমতায় থাকা উচিত, অথচ ৪৬ শতাংশের মতে এক বছরের কম সময়ই যথেষ্ট।

একই সঙ্গে, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকার জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। তবে ২৪ শতাংশের মতে, সরকার নিজের সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে ব্যর্থ।

নির্বাচিত সরকারের প্রতি জনমতের ঝোঁক

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭৯ শতাংশ মনে করেন, একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার অন্তর্বর্তী সরকার থেকে কার্যকরভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারে। অন্যদিকে, মাত্র ১৫ শতাংশ এই মতের বিরোধিতা করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি

আলোচনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “মানুষ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করে, যা তাদের আশার জায়গাগুলো পূরণ করবে।”

বিআইজিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মির্জা এম হাসান বলেন, “অর্থনীতি ও রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকারকে জনগণের উদ্বেগগুলো আরও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে।”

সার্বিক মূল্যায়ন

অন্তর্বর্তী সরকারের কাজের প্রতি জনগণের সন্তুষ্টির স্কোর ৬৮, যা আগস্টের তুলনায় কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের আরও দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে জনআস্থা ফিরিয়ে আনা যায় এবং অর্থনৈতিক সংকট সমাধান হয়।

জরিপের তথ্য দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—জনগণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চাইলেও অর্থনৈতিক সংকট তাদের শঙ্কিত করছে। এই অবস্থায়, সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ