অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে নাশকতাকারীরা বাধা সৃষ্টি করছে। তারা কোনোভাবেই দেশপ্রেমিক হতে পারে না।
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের লালখান বাজারে জামেয়াতুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে মরহুম ড. জামাল নজরুল ইসলামের স্মরণসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। স্মরণসভাটি আয়োজন করে মরহুম ড. জামাল নজরুল ইসলাম স্মৃতি সংসদ।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সচিবালয় ঘেরাও, সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানো, পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাত উসকে দেওয়া এবং সচিবালয়ে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তবে সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে। এ সরকারের ব্যর্থতা মানে দেশের জন্য অমানিশা। তাই সবার ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি।”
নাশকতাকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “নাশকতাকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মরহুম ড. জামাল নজরুল ইসলামের স্মৃতিচারণ করে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “তিনি ছিলেন এক নির্মোহ দেশপ্রেমিক। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ বেতনের চাকরি ত্যাগ করে তিনি মাত্র আড়াই হাজার টাকা বেতনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। মাদ্রাসার প্রতি তার গভীর অনুরাগ ছিল, যা তাকে ৩০ বিঘা জমি দান করতে প্ররোচিত করেছিল। তার এ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
স্মরণসভায় জামেয়াতুল উলুম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুফতি মুহাম্মদ ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ডা. শাহাদত হোসাইন, ইরান দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর সৈয়দ রেজা মীর মোহাম্মদী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ইয়াহিয়া আখতার।
এর আগে উপদেষ্টা চট্টগ্রামের কল্পলোক আবাসিক এলাকায় জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে ছিলেন একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক বোরহান উদ্দিন মো. আবু আহসান।


