রাজশাহীর বাঘায় আড়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। রোববার (৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের মাঠে সংঘর্ষের এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিবুর রহমান জানান, সংঘর্ষের সময় স্কুলের বেশ কিছু চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে মানিক (৪৫) ও রফিকুল ইসলাম (৩৮) নামের দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন সভাপতি নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আজিবুর রহমান বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ইউপি সদস্য আবুল হোসেন ফোনারের ছেলে এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রভাষক পলাশ আহমেদ সভাপতি পদে আবেদন জমা দেন। একই পদে আবেদন করেন বাউসা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনের সমর্থিত প্রভাষক ওয়ালিউর রহমান বিকুল।
দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে আহতদের মধ্যে জাফর হোসেন (৪০), বাবুল হোসেন (৩৮), রোহান হোসেন (২৩), মানিক হোসেন (৪৫), লিখন হোসেন (২২), রফিকুল ইসলাম (৩৮), এনামুল হক (৩৬), রানা হোসেন (১৮) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে মানিক ও রফিকুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চারঘাট-বাঘা এলাকায় বিএনপির দুইটি গ্রুপ সক্রিয়। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ এবং অন্য গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জল।
প্রধান শিক্ষক আজিবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই সভাপতি পদের জন্য আবেদন করেছেন। যাচাই-বাছাই করে উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। তবে সংঘর্ষের কারণে বিদ্যালয়ের বেশ কিছু সম্পদ নষ্ট হয়েছে।
বাঘা থানার ওসি আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


