জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ডিসেম্বর মাসকে লক্ষ্য ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের কোনো ভোট অনুষ্ঠিত হবে না। তবে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছে না এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে।
বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে নানা আলোচনা চললেও কমিশনের অবস্থান পরিষ্কার। কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচন করা সম্ভব নয়, তবে সরকার চাইলে কমিশন বাধ্য হবে তা আয়োজন করতে।
এর আগে, বেলা ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ইউএনডিপি এবং ১৮টি উন্নয়ন সহযোগী দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ভোটার তালিকা হালনাগাদে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করছে। বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে, সোমবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠক করে। বৈঠক শেষে ফখরুল জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য কাজ করছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সব রাজনৈতিক দল একমত হলে ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন দিতে সরকারের আপত্তি নেই। তিনি বলেন, বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চায় এবং একটি রোডম্যাপ চেয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচন চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা ২০২৬ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে।


