মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নগদে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতার প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করেছে হাইকোর্ট। রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ পৃথক দুটি রুল খারিজ করে এ সিদ্ধান্ত দেয়। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নগদে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী জমির উদ্দিন সরকার ও মুহাম্মদ নওশাদ জমির উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবী আবুল কালাম খান দাউদ জানান, আদালত রিটকারীদের আইনগত অধিকার নেই (লুকাস স্ট্যান্ড নাই) এই মর্মে রিট খারিজ করেছে। রায়টি আপিল করা হবে কিনা, সে বিষয়ে রিটকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ২১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদারকে এক বছরের জন্য নগদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। একই সঙ্গে ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক ও যুগ্ম পরিচালকদের সহায়ক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। নগদের পূর্ববর্তী পরিচালনা পর্ষদও ভেঙে দেওয়া হয়।
নগদের নির্বাহী পরিচালক সাফায়েত আলম প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন। রিটে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। প্রাথমিক শুনানিতে হাইকোর্ট রুল জারি করে এবং ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলে।
রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রুল খারিজ করে রায় দেয়। একই ধরনের আরেকটি রিট দায়ের করেন নগদের পরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল হক। আদালত একইভাবে সেটিও খারিজ করে দেয়।
২০১৯ সালে মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে নগদ। বর্তমানে এটি মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) বিকাশের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
তবে নগদের বিরুদ্ধে যথাযথ নিয়মকানুন অনুসরণ না করার অভিযোগ রয়েছে। কেওয়াইসি না করেই গ্রাহক বানানো ও সরকারি ভাতা বিতরণে একচেটিয়া সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
নগদের পরিচালনায় বিভিন্ন সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকনের স্ত্রী রেজওয়ানা নূর, নাহিম রাজ্জাক ও রাজী মোহাম্মদ ফখরুল যুক্ত ছিলেন। এ রায়ের মাধ্যমে নগদে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে বৈধতা পেল।


